অদিতি ফাল্গুনীর ‘অপৌরুষেয় ১৯৭১’ মুক্তিযুদ্ধের শরীরী ও মানসিক ক্ষতকে দেখে একেবারে ভিন্ন কোণ থেকে। নামটিই ইঙ্গিত দেয়, যুদ্ধ কেবল দেশ নয়, মানুষের শরীর আর পৌরুষকেও ছিন্নভিন্ন করে। বইয়ের এক অংশে যুদ্ধে দুই পা হারানো এক কথক কেয়ামুদ্দিনের রবারের পা দেখে ঈর্ষা করে, আর সঙ্গী মধুর আরও গভীর ক্ষতির কথা বলে নির্মম সরলতায়।
লেখার পরিসর শুধু একাত্তরে আটকে নেই। গারো পাহাড়ের জঙ্গলে হাজংদের হাতি ধরার প্রসঙ্গ এসেছে তাদের নিজস্ব ভাষার ঢঙে; আবার বর্গির হামলায় জনশূন্য হয়ে যাওয়া রেশম চাষি ও তাঁতিদের জনপদের হাহাকারও শোনা যায়। কোথাও আবার নিকোলাস নামের কাউকে উদ্দেশ করে স্বপ্ন আর স্মৃতির মাঝামাঝি এক কাব্যিক গদ্য।
১৫২ পৃষ্ঠার এই বই মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য, ইতিহাসের প্রান্তিক কণ্ঠ এবং নিরীক্ষাধর্মী বাংলা কথাসাহিত্যে আগ্রহী পাঠকের জন্য।