‘মৃণালিনী’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর লেখা চিরায়ত উপন্যাস। বাংলাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত। এর কলেবর ১৫২ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 1st Published, 2025।
আলোকোজ্জ্বল শহর ছেড়ে বিয়ের পরে স্বামীর সঙ্গে অধ্যাপক কন্যা শিক্ষিতা মৃণালিনী পা দিল এক বিদ্যুৎহীন গ্রামে, যেখানে সূর্য ডোবার পর শোনা যায় শিয়ালের ডাক। উকিল শ্বশুরমশাই শ্যাম সুন্দর, শাশুড়ি কুমুদ, ননদ সরমা, এবং বিধবা জ্যেঠশাশুড়ি পারুলবালাকে নিয়ে ছিল তার সংসার। সাময়িক স্থগিত হয়ে যাওয়া পড়াশোনা নতুন করে শুরু করতে চেয়ে মৃণালিনী বুঝতে পারল সে এমন পরিবেশে পড়াশোনা শুরুর কথা ভেবেছে, যেখানে মেয়েদের শিক্ষিত করে তোলার প্রয়োজন কেউ মনে করেনি। বিভিন্ন বাধার মোকাবিলা করে, যৌথ পরিবারের এক সাধারণ গৃহবধূ কীভাবে তার স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে গেল, তা নিয়েই এই উপন্যাস। গ্রামের পটভ‚মিকায় লেখা এই গল্পে ছড়িয়ে আছে ভালো,মন্দ, কুটকচালি, বিশ্বাস, অবিশ্বাস নিয়ে গড়ে ওঠা এক গ্রাম্য সমাজের ছবি। এ কাহিনি এক নারীর প্রতি মুহূর্তের লড়াইয়ের গল্প, সমাজ- পরিজন তো বটেই, এমনকী কখনও কখনও নিজের সঙ্গেও। মৃণালিনী এসব লড়াই জিতবে কি না, তার উপর শুধু মৃণালিনীর নয়, নির্ভর করে আছে এমনতর বহু মেয়ের আকাক্সক্ষা।
মৃণালিনী সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের তৃতীয় উপন্যাস। এই উপন্যাসেই প্রথম স্বদেশপ্রেমকে বিষয়বস্তু করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। এই উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্র আলিপুরে থাকাকালীন রচনা করেছিলেন। বইটি উৎসর্গ করেছিলেন বন্ধু তথা বিশিষ্ট নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্রকে। ন্যাশানাল থিয়েটার ১৮৭৪ সালে এই উপন্যাসের নাট্যরূপ মঞ্চস্থ করে।
বিশেষ করে সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। পছন্দের তালিকায় যোগ করুন বইপোকায়।