‘বঙ্কিম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস সমগ্র’ বইটির লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। প্রকাশক অনুভূতি প্রকাশনী। সব মিলিয়ে ২৮৮ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 1st Published, 2025।
প্রায় দুই শত পঞ্চাশ বৎসর পূর্বে এক দিন মাঘ মাসের রাত্রিশেষে একখানি যাত্রীর নৌকা গঙ্গাসাগর হইতে প্রত্যাগমন করিতেছিল। পর্তুগিস ও অন্যান্য নাবিকদস্যুদিগের কয়ে যাত্রীর নৌকা দলবদ্ধ হইয়া যাতায়াত করাই তৎকালের প্রথা ছিল, কিন্তু এই নৌকারোহীরা সঙ্গিহীন। তাহার কারণ এই যে, রাত্রিশেষে ঘোরতর কুজঝটিকা দিগন্ত ব্যাপ্ত করিয়াছিল, নাবিকেরা দিত্ব নিরূপণ করিতে না পারিয়া বহর হইতে দূরে পড়িয়াছিল। এক্ষণে কোন দিকে কোথায় যাইতেছে, তাহার কিছুই নিশ্চয়তা ছিল না। নৌকারোহগণ অনেকেই নিদ্রা যাইতেছিলেন। একজন প্রাচীন এবং একজন যুবা পুরুষ এই দুই জন মাত্র জাল্লাৎ অবস্থায় ছিলেন। প্রাচীন যুবকের সহিত কথোপকথন করিতেছিলেন। বারেক কথাবার্তা স্থগিত করিয়া বৃদ্ধ নাবিকদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, "মাঝি, আজ কত দূর যেতে পারবিং' মাঝি কিছু ইয়াবলি "বলিতে পারিলাম না।"
বৃদ্ধ বৃদ্ধ হইয়া মাঝিকে তিরস্কার করিতে লাগিলেন। যুবক কহিলেন, "মহাশয়, যাহা জগদীশ্বরের হার, আহা পড়িতে বলিতে পারে না-ও মূর্খ কি প্রকারে বলিবে? আপনি ব্যস্ত হইবেন না।"
বৃদ্ধ উগ্রতাবে কহিলেন, "বাজ হব না? বল কি, বেটারা বিশ পচিশ বিঘার ধান কাটিয়া লইয়া গেল, ছেলেপিলে সম্বৎসর খাবে কি?
এ সংবাদ তিনি সাগরে উপনীত হইলে পরে পশ্চাদাগত অন্য যাত্রীর মুখে পাইয়াছিলেন। যুবা কহিলেন, "আমি র পুতোই বলিয়াছিলাম, মহাশয়ের বাটীতে অভিভাবক আর কেহ নাই-মহাশয়ের আসা ভাল হয় নাই
প্রাচীন পূর্ববং উভাবে বহিলেন, "আসব না।
বইপ্রেমী পাঠকদের কাছে বইটি আগ্রহের বিষয় হতে পারে। বইপোকায় এখনই সংগ্রহ করুন।