লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ পাঠকের সামনে এসেছে চিরায়ত উপন্যাস হিসেবে। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলাপ্রকাশ। সব মিলিয়ে ১৫২ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 1st Published, 2025।
এক টুকরো সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের রূপ, রস এবং প্রেম-কামনা, বিরহ-বেদনা-বিচ্ছেদ এবং শেষে সংসার জীবন ত্যাগ করে সন্ন্যাসজীবন বেঁচে নেওয়ার মাধ্যমে আত্মতৃপ্তির চেষ্টা; কিন্তু মানুষের জীবনে কি কখনও আত্মতৃপ্তি বলে কিছু আসে? আসে না বলেই মানুষ সুখকে ছেড়ে দুঃখের সন্ধান করে আবার দুঃখকে ছেড়ে সুখের সন্ধান করে, তবে শেষে ফলাফল শূন্য।
মূলত কৃষ্ণকান্ত রায় এবং রামকান্ত রায় দুই ভাই, রামকান্তের মৃত্যুর পর সম্পত্তি ভাগ হওয়া নিয়ে কাহিনির সূত্রপাত। কৃষ্ণকান্ত তার ভাইয়ের ছেলে গোবিন্দলালকে ঠকাতে চায়নি বলে সম্পত্তিকে দুই ভাগ করে এক ভাগ গোবিন্দলালকে দিয়ে দেয়, কিন্তু তার ছেলে হরলাল তা মেনে নেয় না এবং সে চক্রান্ত করে রোহিণীর সাহায্যে আসল উইলের সাথে নকল উইল বদলে দেয়। কে জানতো বিধবা রোহিণী গোবিন্দলালের প্রেমে মজিবে! যাই হোক কৃষ্ণকান্তের উইল পড়ে যা বোধগম্য হয় তা হলো...।
পুরুষ চিরকাল নারীর সৌন্দর্যের পূজারী। যে নারীর রূপ আছে সে নারী আপন সৌন্দর্যের বলে সবকিছু ছিনিয়া নিতে জানে। যেমন করে বিধবা রোহিণী আপন সৌন্দর্যের বলে গোবিন্দলালকে অনেকটা মোহগ্রস্ত করে নেয়। আর অপর দিকে গোবিন্দলালের স্ত্রী কৃষ্ণকামিনী অর্থাৎ ভ্রমর আপনার হৃদয়ের কোলম ভালোবাসা দিয়ে কিছুতেই গোবিন্দলালকে আটকে রাখতে পারল না!
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি সংগ্রহে রাখার মতো। বইপোকা থেকে অর্ডার করুন।