‘বিষবৃক্ষ’ বইটির লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; এটি একটি চিরায়ত উপন্যাস। প্রকাশনার দায়িত্বে বাংলাপ্রকাশ। এর কলেবর ১৭৬ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 1st Edition, 2025।
বঙ্কিম তাঁর সমকালের সমাজপ্রগতির ছবি আঁকতে গিয়ে ভাবের চেয়ে রূপকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। আর উপস্থাপনভঙ্গিতে ছিল কবিত্ব। বিশেষ করে নারীর রূপের মোহজাগানিয়া শক্তির প্রকাশে তাঁর সমকক্ষ আর কেউ নেই। নারীর রূপের মহিমার পাশাপাশি এঁকেছেন পুরুষের সৌর্ন্দতৃষ্ণা। নরনারীর প্রেম, নারীর রূপের মোহে আচ্ছন্ন পুরুষের করুণ পরিণতি, বিধবা-প্রসঙ্গ, পারিবারিক দ্ব›দ্ব-বিবাদ এবং সমকালীন সামাজিকতার বিচারে তাঁর বিষবৃক্ষ কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। শিল্পের বিচারে উপন্যাসটি খুবই উঁচুমাপের হলেও সামাজিক বিষয়াদি পরিবেশনে রক্ষণশীলতার দায় এড়াতে পারেনি। সূর্যমুখীর স্বামীভক্তিকে এত বেশি রঙ চড়িয়ে আঁকা হয়েছে যে, তা সাধারণ পাঠকের চোখে অবিশ্বাস্য বলে ঠেকে। আবার সূর্যমুখীর মুখ দিয়ে বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশের মধ্য দিয়ে লেখক বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর হিন্দুয়ানির প্রতিক্রিয়াশীলতাকেই তুলে ধরেছেন বলে অনেকের ধারণা। বিদ্যাসাগরের সমাজ-সংস্কারের মূল ধারায় বঙ্কিম প্রবেশ করতে পারেননি কেবল সনাতন ধর্মের কায়েমি স্বার্থের কাছে মনে মনে হার মেনেছিলেন বলে। তবে তিনি আধুনিক বাঙালির চিন্তা ও কল্পনা, উদ্যম ও উন্নত আশার পূর্ণ বিকাশভ‚মি। উনিশ শতকে ভারতে জ্ঞান ও বাণিজ্যের উৎকর্ষের সময় ব্যক্তিগত প্রতিভা ও শক্তিকে অবলম্বন করে সামনে এগোবার যে পথ তৈরি হচ্ছিল, তার বার্তাবাহক এই সমাজশিল্পী বঙ্কিমচন্দ্র।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। আজই বইপোকা থেকে অর্ডার দিন।