‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ বইটির লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; এটি একটি চিরায়ত উপন্যাস। আজকাল প্রকাশনী-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। বইটিতে আছে ৭২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: Re-Printed, 2016।
ঊনবিংশ শতাব্দীর সীমাবদ্ধ নবজাগরণের শক্তি ও স্বাতন্ত্র্যকে আত্তীকরণ করে যে-সব বাঙালি মনীষার আবির্ভাব, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) তাঁদের অন্যতম। মানব-অস্তিত্বের সামূহিক বৈচিত্র্যকে উপলব্ধি করাই বঙ্কিমমনীষার প্রধান লক্ষ্য; অখণ্ড ও সমগ্র জীবনতত্ত্বের শৈল্পিক রূপায়ণই তাঁর সাধনা ও সৃষ্টির কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যেই তিনি কখনো উপনিষদ কখনো প্রকৃতিবিজ্ঞান কখনো হিতবাদ কখনো প্রত্যক্ষতাবাদ কখনো-বা পুরাণ ও তত্ত্বের অনুসারী হয়েছেন, সর্বত্র খুঁজেছেন মানুষের অখণ্ড জীবন-বৈভব। মানব-বৈচিত্র্যকে সন্ধান করতে গিয়ে তিনি জাতীয়তাবোধ ও রাষ্ট্রচিন্তাতেও গভীরভাবে মনোযোগী হয়েছেন, নিজেকে পরিণত করেছেন ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তানায়ক হিসেবে। ১ বঙ্কিমচন্দ্র, যথার্থ অর্থেই, ঊনবিংশ শতাব্দীর সৃষ্টি। আবার ভিন্নভাবে বললে, যাঁদের সাধনায় ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাঙালির মনীষাগত জাগরণ, বঙ্কিমচন্দ্র তাঁদের অন্যতম। 'চিত্তশুদ্ধি' তথা 'চিত্তরঞ্জিনী বৃত্তির বিকাশই' বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যকর্মের মৌল বক্তব্য। তাঁর সব রচনাতেই আছে চিত্তশুদ্ধির আহ্বান। বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস কৃষ্ণকান্তের উইল-এ২ তাঁর এই 'চিত্তশুদ্ধি তত্ত্ব'ই বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে শিল্পরূপ লাভ করেছে।
বিশেষ করে সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। বইপোকা থেকে অর্ডার করুন।