"কপালকুণ্ডলা" বইটি সম্পর্কে কিছু কথা: কপালকুণ্ডলা এক ভিন্ন মাত্রার উপন্যাস। এক বনবালার একটি সাধারণ কাহিনীকে অসাধারণ দক্ষতায় চিত্রিত করেছেন ঔপন্যাসিক। তিনি সাহিত্যের নিপুণ শল্পী। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় আরাে অনেক সাধারণ চরিত্র অসাধারণ হয়ে উঠেছে। কপালকুণ্ডলা বনে বেড়ে ওঠা এক বনবালা। আর দশজনের চেয়ে তার জীবনযাত্রা একেবারেই ভিন্ন। রকম। যদিও বাংলা সাহিত্য বা বিশ্ব সাহিত্যে বনবালাদের নিয়ে আখ্যান একটি প্রথম নয়। শকুন্তলা বা মিরাণ্ডা একই রকম চরিত্র। তবে কপালকুণ্ডলা তাদের চেয়ে আলাদা। অনেকটা সহজ-সরল, একেবারেই নিঃসঙ্গ। এই নিঃসঙ্গ জীবনই যেন ওর বেশি পছন্দ। বনে বেড়ে ওঠেছে। বলে বনেই তাঁর যত প্রশান্তি। আর সে কারণে কোলাহলমুখর সংসারের মােহ তাকে বেঁধে রাখতে পারেনি, দিতে পারেনি গৃহ সুখ। বন তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। বনের সে ডাকে সাড়া না দিয়ে থাকতে পারে না কপালকুণ্ডলা। ফলে আবার বনে ফিরে যায় এবং অনিবার্য পরিণতিকে সাদরে আলিঙ্গন করে ।