‘কমলাকান্ত’ বইটির লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; এটি একটি সমকালীন গল্প। প্রকাশক বাংলাপ্রকাশ। সব মিলিয়ে ১১২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2025।
আচার ব্যবহারের দিক থেকে কমলাকান্ত স্বাভাবিক ও সংযত নয়। গ্রন্থের প্রথম থেকেই লক্ষ করি, যে পাগলাকে আত্মভোলা, অগোছালো জীবনযাপনে অভ্যস্থ, সর্বোপরি সংসারবন্ধন মুক্ত। তবে বিদ্বান এবং বুদ্ধিমান ছিলেন। খাশনবীশের ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে-‘কমলাকান্তের মতো বিদ্বান যাহারা কেবল কতকগুলো বই পড়িয়াছে, তাহারা আমার মতে গণ্ডমূর্খ।’
কারণ বিদ্বান হওয়া সত্তে¡ও প্রতিপত্তিশীলের মধ্য দিয়ে জীবনে সে দাঁড়াতে পারেনি। সরকারি চাকরিকে সে রসিকতা বলে মানে। সময় ক্ষেত্র শেক্সপিয়রের কবিতা বা আদালত চত্বরকে তীব্র ব্যঙ্গের দ্বারা তাদের অসারত্ব প্রমাণ করতে থাকে। এককথায়, আমাদের এই নিয়মনিষ্ঠ সমাজে কমলাকান্তের বোধ বুদ্ধি বিবেচনা বাতুলতা বা প্রলাপের নামান্তর মাত্র। যে ধারাবাহিক বা গণ্ডিবদ্ধ জীবনের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে আমরা এতদিন বাস করছিলাম কমলাকান্তের তাজা মনে এবং তাঁর ব্যবহারে তা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। মুক্ত বিহঙ্গের মতো পাখা মেলতে কমলাকান্ত সবাইকে পরোক্ষে সে ইঙ্গিত দেন। তাই কমলাকান্তকে বাতুল বা গণ্ডমূর্খ বলেও তাঁরই নির্দেশে আমরা সামাজিক কুসংস্কারের হাত থেকে মুক্ত হতে চাই।
কমলাকান্তের বেহিসেবি জীবনযাপনকে সাধারণ মানুষ হয়তো সশ্রদ্ধ চিত্তে মেনে নেবেন না, কিন্তু তার মধ্যে যে মহত্ব বা প্রতিভা ছিল তাকে তো অস্বীকার বা অবহেলা করার উপায় নেই।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। ঘরে বসেই বইপোকায় অর্ডার করুন।