‘ইন্দিরা ও রাধারাণী’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর লেখা সমকালীন উপন্যাস। অনুভূতি প্রকাশনী-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। এর কলেবর ১০৪ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 1st Edition, 2025।
অনেক দিনের পর আমি শ্বশুরবাড়ী যাইতেছিলাম। আমি উনিশ বৎসরে
পড়িয়াছিলাম, তথাপি এ পর্যন্ত শ্বশুরের ঘর করি নাই। তাহার কারণ, আমার পিতা ধনী, শ্বশুর দরিদ্র। বিবাহের কিছু দিন পরেই শ্বশুর আমাকে লইতে লোক পাঠাইয়াছিলেন, কিন্তু পিতা পাঠাইলেন না; বলিলেন, "বিহাইকে বলিও যে, আগে আমার জামাতা উপার্জন করিতে শিখুক-তার পর বধূ লইয়া যাইবেন-এখন আমার মেয়ে লইয়া গিয়া খাওয়াইবেন কি?" শুনিয়া আমার স্বামীর মনে বড় ঘৃণা জন্মিল- তাহার বয়স তখন কুড়ি বৎসর, তিনি প্রতিজ্ঞা করিলেন যে, স্বয়ং অর্থোপার্জন করিয়া পরিবার প্রতিপালন করিবেন। এই ভাবিয়া তিনি পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রা করিলেন। তখন রেইল হয় নাই-পশ্চিমের পথ অতি দুর্গম ছিল। তিনি পদব্রজে, বিনা অর্থে, বিনা সহায়ে, সেই পথ অতিবাহিত করিয়া, পঞ্জাবে গিয়া উপস্থিত হইলেন। যে ইহা পারে, সে অর্থোপার্জন করিতেও পারে। রাগে আমার শরীর গর গর করিত। কি কলকৌশল করিলেন বলিতে পারি না, কিন্তু যে সময়ের ইতিহাস আরম্ভ করিতেছি, তাহার কিছু পূর্বে আমার স্বামী বাড়ী আসিলেন। রব উঠিল যে, তিনি কমিসেরিয়েটের (কমিসেরিয়েট বটে ত?) কর্ম করিয়া অতুল ঐশ্বর্যের অধিপতি হইয়া আসিয়াছেন। আমার শ্বশুর আমার পিতাকে.............
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি সংগ্রহে রাখার মতো। আজই বইপোকা থেকে অর্ডার দিন।