‘শ্রীকান্ত’ বইটির লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; এটি একটি চিরায়ত উপন্যাস। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলাপ্রকাশ। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ৫২৮ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 1st Published, 2024 নিয়ে।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শ্রীকান্ত উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তাঁর সময়কে সার্থকভাবে চিত্রিত করেছেন। তাঁর লেখায় সে সময়ের সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি, বঞ্চনা ও জাতিগত ভেদাভেদ চিত্রিত হয়েছে। শ্রীকান্ত সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থার নিখুঁত বর্ণনা এত বছর পরও আমাদের মনে দাগ কাটে। তৎকালীন হিন্দু সমাজের সনাতন ধ্যান ধারণার বর্ণনা আমরা এই উপন্যাসের মাধ্যমে পাই। শরৎচন্দ্র এই অন্ধকার মানসিকতার বিরুদ্ধে বারবার অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন। আমরা শ্রীকান্ত উপন্যাসে সাধুরীতি ও চলতিরীতির সংমিশ্রণ দেখতে পাই। কিন্তু শরৎচন্দ্র উভয় রীতিকে এতটা নিপুণভাবে প্রয়োগ করেছেন যে তা গুরুচন্ডালি না হয়ে নান্দনিক হয়ে উঠেছে।
এই উপন্যাসে চরিত্রগুলোর বিন্যাস অত্যন্ত নিখুঁত। চরিত্রসমূহ একের পর এক চিত্রিত হয়েছে নানা ঘটনার মাধ্যমে তাদের জীবনের দুঃখ কষ্ট বিবৃত করে। এসকল চরিত্রের সমন্বয়ে শরৎচন্দ্র শ্রীকান্তকে পরিপূর্ণতার দিকে নিয়ে গেছেন। অপূর্ব ভাষাশৈলী এবং অসাধারণ বর্ণনা নিতান্ত উপেক্ষিত স্থানকেও করে তুলেছে সৌন্দর্য্য । যেন তা এ-সকল স্থানের মধ্যে বিরাজমান ছিল। কিন্তু তা কখনও বাহুল্যে ভারাক্রান্ত নয়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো মহাশ্মশানের বর্ণনা। অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের বর্ণনাও অত্যন্ত প্রাণবন্ত, যা পাঠককে ঐ স্থানে এবং ঐ সময়ে নিয়ে যায়। লেখক বারবারই সমাজের অমানবিক দিকসমূহকে চিহ্নিত করেছেন।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের কাছে বইটি আগ্রহের বিষয় হতে পারে। ঘরে বসেই বইপোকায় অর্ডার করুন।