শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘শ্রীকান্ত’ বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে প্রিয় চিরায়ত কাহিনিগুলোর একটি। ভারতবর্ষ পত্রিকায় প্রথমে ‘শ্রীকান্তের ভ্রমণকাহিনী’ নামে শুরু হওয়া এই আখ্যান মোট চারটি খণ্ডে বিস্তৃত, যার শেষ খণ্ড বেরিয়েছিল বিচিত্রা পত্রিকায়।
ভবঘুরে কথক শ্রীকান্তের জীবনপরিক্রমায় ভিড় করে অসংখ্য চরিত্র: রাজলক্ষ্মী বা পিয়ারী, অন্নদাদিদি, অভয়া, সুনন্দা, কমললতা। ভ্রমণকাহিনির ঢঙে আলাদা আলাদা গল্পের মালা মনে হলেও রাজলক্ষ্মীর সঙ্গে সম্পর্কই সব খণ্ডকে এক সুতোয় বেঁধেছে। নির্লিপ্ততার আড়ালে আকর্ষণ আর বিকর্ষণের যে সূক্ষ্ম খেলা, সেটাই এই উপন্যাসের প্রাণ।
পাঁচশো চার পৃষ্ঠার এই ধ্রুপদী উপন্যাস বাঙালির আবেগ ও স্মৃতিকাতরতার গভীরে পৌঁছানোর এক অনন্য পথ। প্রথমবার পড়া হোক বা আবার ফিরে পড়া, শ্রীকান্ত প্রতিবারই নতুন করে ধরা দেয়।