স্পেয়ার সবই কাজে লাগে। গাড়িতে যেমন স্পেয়ার চাকা থাকে, ভালো ব্র্যান্ডের শার্টে যেমন স্পেয়ার বোতাম থাকে, ও রকমই আপনার বাড়িতেও একজন স্পেয়ার মানুষ থাকা ভালো। কখন কার কী কাজে লাগে। যেমন ধরুন, কোনো চিকিৎসাগত কারণে আপনার ফ্যামিলির কারো একটা কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা দরকার। আমার একটা কিডনি দিয়ে দেব, কিংবা ধরুন কর্নিয়া রিপ্লেসমেন্ট, আমার চোখ তো আছেই। আমি একটা কর্নিয়া দিয়ে দেব। আমাকে যেকোনো কাজে লাগাতে পারেন। এমন একজন স্পেয়ার মানুষকে নিয়েই আন্দালিব রাশদীর ব্যতিক্রমধর্মী এই উপন্যাস। ‘পুষ্প বলল, শোন দোয়েল, তুই রেডিয়েশন নিয়ে কাজুওর সঙ্গে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছিস। মা বলেছে, তুই চড়ও মেরেছিস। এ জন্যই তোকে কিছু দেয়নি। আমার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। আমি পিরিয়ড মিস করেছি এক মাসেরও বেশি হয়ে গেছে। আজ সকালেই নিজের প্রেগন্যান্সি টেস্ট করালাম পজিটিভ। আমি কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললাম, আমাকেও দিয়েছে। পুষ্প জিজ্ঞেস করল, কী? আমার বুক ফেটে কান্না এলো। আমি মুখ চেপে বললাম, পুষ্প আমাকেও দিয়েছে, আর একটা স্পেয়ার মানুষ। আমার পেটে।’ দোয়েল এবং স্পেয়ার মানুষের গল্পটা আন্দালিব রাশদীর চেয়ে ভালো করে আর কে লিখবেন? আন্দালিব রাশদীর পাঠক জানেন, তাঁর উপন্যাস হাতে নিলে শেষ না করে উঠা যায় না। স্পেয়ার মানুষ-এ ও তাই।