"পল্লীসমাজ" বইটি সম্পর্কে কিছু কথাঃ সহ্য করারও একটা সীমা আছে। প্রজারা চিরকাল জমিদারের অত্যাচার সহ্য করে না। উপযুক্ত নেতৃত্ব পেলে এরা মরীয়া হয়ে উঠে বিদ্রোহ ঘােষণা করে। একশ বিঘার সেই মাঠের জল নিকাশের জন্য কেঁদে কেটেও যখন কোনাে ফল হল না তখন রমেশের নেতৃত্বে চাষীরা জোর করে জমিদারের অন্যায় বাঁধটা কেটে দিয়েছিল। জমিদার রমা আর বেণীও চুপ করে ছিল না। লাঠিয়াল আকবরের লাঠির জোরে তারা অনেক বিষয় হস্তগত করেছিল, কিন্তু সেদিন বাঁধের সংঘর্ষে রমেশের লাঠির কাছে তারা দাঁড়াতে পারেনি। বেণী অবশ্য আকবরকে প্ররােচনা দিয়েছিল থানায় গিয়ে নালিশ করতে, কিন্তু গরীব হলেও আকবরের ইজ্জত বােধ আছে। এই উপন্যাসে আকবর একটি অপূর্ব সৃষ্টি। বেণী ও রমার সর্বপ্রকার অনুনয়, বিনয়, ভৎসনা, ক্রোধ উপেক্ষা করে আকবর বলেছিল, “কি কও বড়বাবু; সরম নেই মাের? পাঁচখানা গাঁয়ের লােকে মােরে সর্দার কয় না? দিদি ঠাকরুণ, তুমি হুকুম করলে আসামী হয়ে জ্যাল খাটতে পারি, ফৈরিদি হব কোন্ কালা মুখে? শরশ্চন্দ্রের পল্লীসমাজের আগের সব উপন্যাসে জমিদারদের হাতে প্রজাদের পড়ে পড়ে মার খাওয়ার করুণ কাহিনী আছে কিন্তু প্রজাদের প্রতিবাদ নেই। সামন্তপ্রভুদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানাের মতাে কোনাে চরিত্র নেই। এই প্রথম তাঁর পল্লীসমাজ উপন্যাসে প্রজারা তাদের জীবনযুদ্ধে পূর্ণ বিশ্বাস আর আস্থা নিয়ে জমিদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালাে।