‘পল্লী-সমাজ’ সমাজসমস্যামূলক উপন্যাস। শরৎচন্দ্র তাঁর চেতনার শেকড় গ্রামীণ সমাজের গভীরে প্রসারিত করেছিলেন। ফলে, সমাজ-অন্তর্গত বিচিত্র সংকট ও তার কার্যকারণ অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে উন্মোচিত হয়েছে এ-উপন্যাসে। ধর্মসংস্কারের যূপকাষ্ঠে মানুষের প্রেমধর্ম, হৃদয়শক্তি ও মুক্তচেতনারই কেবল বলিদান ঘটেনি এতে, সমাজজীবনের অগ্রগতির পথও রক্তাক্ত ও কালিমালিপ্ত হয়েছে। উপন্যাসের শুরুতেই আমরা লক্ষ্য করি পিতৃশ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান উপলক্ষে উচ্চশিক্ষিত রমেশের গ্রামে আগমন এবং পূর্বতন পারিবারিক কোন্দলের সূত্র ধরে তারই জেঠাত ভাই বেণী ঘোষাল কর্তৃক সেই অনুষ্ঠান পণ্ড করার আত্যন্তিক প্রচেষ্টা। রমার পিতা বলরাম মুখুয্যে ও রমেশের পিতা তারিণী ঘোষালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব পারিবারিক ও বৈষয়িক সংঘাতের সূত্র ধরেই চিরদিনের জন্য ছিন্ন হয়ে যায়।...