কি গো অর্পণ? বুঝছোটা কি?
কম্পার্টমেন্টের জানালা দিয়ে মুখ বের করে ট্রেনটা কেন দাঁড়িয়ে আছে তা দেখার নিষ্ফল চেষ্টা করে বললাম, কিছুই তো বুঝছি না গামাদা।
বর্ধমান-হাওড়া লোকালের এই নিত্যযাত্রীদের মধ্যে তরুণতর অনেকেই আছে যারা উঁচু ই. এম. উ. কোচ-এর সিঁড়ি থেকেও জমিতে ফটাফট নিচে নেমে গার্ড অথবা এঞ্জিনম্যান-এর কাছ থেকে ট্রেনের খাল-খরিয়ৎ পুছ-পাছ করে ফিরে এসে আমাদের মতন প্রৌঢ় ও বৃদ্ধদের তরতাজা খবর জানায়।
অপু আর মদন গেছিল, মুড়িওয়ালা জীবন, তরমুজওয়ালা ঘণ্টেশ্বরের সঙ্গে।
তারা সকলেই আগে-পরে ফিরে এসে বলল, আগের গাড়ি মোষ মেরেছে সামনের লেভেল ক্রসিং-এ। সেই মোষ, লাইনের ওপর থেকে যতক্ষণ সরানো না হচ্ছে ততক্ষণ আমাদের লোকাল কখন যাবে তার কোনই ঠিক নেই।
গামাদা, ওরফে যতীনবাবু পাঞ্জাবীর হাতা গুটিয়ে তাঁর জামাই-এর উপহার দেওয়া নতুন টাইমেক্স ভিস্টা ঘড়িটার সঙ্গে শুভদৃষ্টি করে বললেন, হল্লো। আপিসে আজও লেট। নতুন এক কুলোপানা চক্কর ডি সি এয়েচে। লাইপ হেল করে দিলে র্যা! তার মুখটা মনে করলেই আমার... দুসস...।
যতীনবাবুর কোলের ওপরেই 'সংবাদ প্রতিদিন' কাগজটা মাঝখান দিয়ে ভাঁজ করা অবস্থাতে রাখা ছিল। আমি 'বঙ্গলোক' পড়ি। নতুন কাগজ কিন্তু ভাল কাগজ। অন্য কাগজ একটু-আধটু দেখি, চোখ বুলিয়ে।........