ট্রেন থেকে নামতে না নামতেই ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি এল। বৃষ্টির তোড় এমন কিছু নয়। কিন্তু ঝড়ের দাপটে শাড়ি সায়া উড়ে যাবার উপক্রম হল। অবশ্য প্রায় আধ ঘণ্টাটাক আগে থেকেই রেল লাইনের দু-পাশে ঝাঁটিজঙ্গলে আর উদোম টাড়ে বিদ্যুতের চাবুক চমকে চমকে পিছলে পিছলে বেড়াচ্ছিল।
ট্রেনটা যদি জংশানেই এতখানি লেট না করত তবে নিদপুরা স্টেশনে তো ওরা সন্ধে লাগার আগেই পৌঁছে যেত। চেয়েও ছিল তাই। অচেনা অজানা জায়গা। রুবীর কাকার মুখে গল্প শুনেই এই নিদপুরাতে আসা ওদের।
ট্রেনটার পেছনের লাল বাতিটা মিলিয়ে যেতেই কলি আর পর্ণার ভয় ভয় করতে লাগল। অচেনা স্টেশনটিতে আলো নেই তেমন। বেশ নির্জনও।
কিছু সাঁওতাল-মুণ্ডা মাঝি-মেঝেন নেমেছিল। একজন মাঝবয়সি দাড়িওয়ালা গম্ভীর ভদ্রলোক। একটা কালো কুকুর বৃষ্টিতে ভিজে ওভারব্রিজের তলায় এসে আশ্রয় নিয়েছিল। তার ভেজা গা থেকে বিচ্ছিরি একটা কুকুর-কুকুর বোটকা গন্ধ বেরোচ্ছিল। খচর খচর করে পা দিয়ে গা চুলকোচ্ছিল কুকুরটা।
একজন পাগলমতো মানুষ। মতো নয়; পাগলই। হাতে গাঁজার কল্কের মতো একটা কল্কে নিয়ে; মতো নয়, গাঁজাই, জোরে দম মেরে বলল: ব্যোম শঙ্কর।
চমকে উঠল ওরা দুজনেই। এমনিতে তো ভিজে গিয়ে কাঁপছিলই তার উপর এই হঠাৎ চিৎকারে আরও ভয় পেয়ে গেল। ওভারব্রিজের ওপরের আলোটা ঝোড়ো হাওয়াতে দুধারে দুলতে থাকাতে, প্ল্যাটফর্মে, ওভারব্রিজের সিঁড়িতে আলোছায়ার খেলা চলতে থাকল। গা-ছমছম করে উঠল ওদের।.......