কবিটবিদের ছোটরাও ভাই-ই ডাকে, কিন্তু কবি সাহেব বেশ ফর্মাল। স্যার না বললে পারতপক্ষে সাড়া দেন না। কাউকে কাউকে বিব্রতকর কথা বলে স্যার ডাকতে বাধ্য করেন। জিন্স প্যান্ট ও হাতা ওল্টানো কোট পরা একজন লেখক তাকে শাফকাত ভাই বললে তিনি মুহূর্ত দেরি না করে বললেন, ঘুষখোর সাব-ইন্সপেক্টরকে স্যার বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলো আর দেশের এক নম্বর কবিকে স্যার বলতে তোমাদের জিহ্বা আড়ষ্ট হয়ে যায়। তুমি আমার কিসের ভাই? ওদিকে কবির মেয়ে টুপুর তার স্বামীকে নিয়ে বলছে, নওশাদ কারণে-অকারণে সেই নোংরা, জঘন্য, গা ঘিনঘিন করা গালিটা দিচ্ছে। নাশতার সময় যদি গালিটা দিতে ভুলে যায়, তাহলে রাতের খাবারের সময় অবশ্যই দেবে। দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে আমাকে বলে-কবির বাচ্চা। বিলাইয়ের বাচ্চা, ব্যাঙের বাচ্চা, যা-ই আগে বলত সহ্য করতাম। কবির বাচ্চা গালটা আমি আর সহ্য করতে পারছি না। শুনলে আমার শরীরে আগুন ধরে যায়। টুপুর মাকে বলল, আমি জানি এরপর তুমি হয়তো বলবে কবির মেয়েকে কবির বাচ্চা বলবে না তো বৈজ্ঞানিকের বাচ্চা বলবে? নাকি সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারের বাচ্চা? তুমি ঐ হারামজাদাটার আত্মীয়- এটা যখন মনে হয় তোমার সাথেও কথা বলতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু ঘটনাটি আসলে কী ? আন্দালিব রাশদীর পাঠক জানেন, তাঁর উপন্যাস হাতে নিলে শেষ না করে উঠা যায় না। আন্দালিব রাশদীকে নিয়ে সমস্যাটা এ উপন্যাসেও রয়ে গেছে