আধুনিক কালে শাসকের হাতিয়ার হিসেবে গুরুত্ব বুঝেই কি গুন্ডার নির্মাণ? লেখক দেখিয়েছেন, ঔপনিবেশিক কালে গোড়ায় তারাও ছিল রাজনীতির বোড়ে, ক্রমে হয়ে উঠল সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রতীক: ব্রিটিশ শাসকের হাতে নগর নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র, ধর্মীয় বিভাজন থেকে লিঙ্গ ও শ্রেণি-রাজনীতির চালিকাশক্তি- আজ যে রূপটি চেনা। কলকাতার সাহেব গুন্ডা, দেশি গুন্ডা, পুরনো চিনেপাড়ার গুন্ডা, কাশীর গুন্ডাদের নিয়ে চমৎকার তথ্য ও গল্পকথা পরিবেশন করেছেন লেখক, আলাদা একটি অধ্যায়ে সেকালের অপরাধজগতের মেয়েদের কথা: ত্রৈলোক্যতারিণী দেবী থেকে ওয়াসিফান্নিসা বিবি। কলকাতার সাম্প্রদায়িক হিংসার গোড়ার যুগে গুন্ডাদের ভূমিকাও আলোচিত; সেই সঙ্গে গুন্ডা দমন আইনের পরিপ্রেক্ষিত, তার সীমাবদ্ধতাও।
১৮ শতকের বাঙালি অভিধান থেকে শুরু করে ১৯৩০-এর দশকের গুণ্ডা দমন আইন পর্যন্ত বিস্তৃত এই গবেষণায় উন্মোচিত হয় কেমন করে 'গুণ্ডা' শব্দটি একদিকে অপরাধ, আরেকদিকে ঔপনিবেশিক শাসনের সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। শ্রমিক আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে গুণ্ডারা কখনও বিদ্রোহের সৈনিক, কখনও এই দ্বৈত শাসনের হাতিয়ার ভূমিকা বইটিকে এক নতুন রাজনৈতিক পাঠে পরিণত করেছে। ব্রিটিশ প্রশাসন "গুণ্ডা” ধারণাকে ব্যবহার করেছে নগর নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র হিসেবে- একদিকে দমননীতি, অন্যদিকে সামাজিক শৃঙ্খলার নামে ভয়ের রাজনীতি। নারীরাও এই জগতের অংশ ছিল। তাঁদের অনেকেই ছিলেন শ্রমজীবী পাড়া, পতিতালয়, কিংবা দরিদ্র বস্তির সামাজিক বাস্তবতায় গড়ে ওঠা নারী, যারা নিজেদের টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রশাসন ও সামাজিক নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করতেন।