চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য: ঔপনিবেশিক বাংলা | বইসদাই | বইপোকা
সভ্যতার বিকাশে যেকোন দেশে এবং যেকোন যুগে একদিকে যেমন চাই শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ, অন্যদিকে তেমন প্রয়োজন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি। বাঙালির বিজ্ঞানভাবনা ও সাধনার প্রাথমিক পরিচয় মূলত কলকাতা-কেন্দ্রিক। জব চার্নকের পদাপর্ণের পর থেকে কলকাতার বিকাশ ও বিস্তৃতি ঘটেছে তার প্রয়োজন অনুসারে। সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কোন ছাপ পড়েনি। সাধারণ টোল, মাদ্রাসাতে যেমন চলত শিক্ষাচর্চা, তেমন স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য চিকিৎসা চলত আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতেই। পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে থাকে ঊনবিংশ শতক থেকে। ইউরোপীয় নবজাগরণের প্রভাবে প্রভাবিত হয় ভারতবর্ষ তথা বাংলা। বাংলার বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষিত মানুষের মাধ্যমেই প্রবাহিত হতে থাকে নবজাগরণের প্রবাহ। মধ্যযুগীয় কুসংস্কার ও কুপ্রথাগুলিকে বিতাড়িত করে পাশ্চাত্য সভ্যতা ও বিজ্ঞানালোকের সংস্পর্শে এসে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে জন্ম হয় আধুনিকতার মূল্যবোধ, যার মূল চালিকাশক্তি ছিল বিজ্ঞান। গবেষকরা এই প্রতিক্রিয়াকে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাখ্যা করেছেন ‘ঔপনিবেশিক বিজ্ঞানপর্ব’ হিসাবে। সমকালীন সময়ে রক্ষণশীল এবং প্রগতিবাদীদের মধ্যে ঐতিহ্য ও আধুনিকতাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক থাকলেও, উভয়পক্ষই কিন্তু অনুধাবন করেছিল যে, ব্রিটেনের সঙ্গে ভারতের শক্তি ও অবস্থার পার্থক্যের মূলে ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। সেই কারণেই ঊনবিংশ শতকের বাংলায় আধুনিকতার অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বিজ্ঞান। আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারের প্রক্রিয়াও শুরু হয় বাংলায় এই পর্বেই।
১৮১৩-৩৫ সাল বাংলার শিক্ষার ইতিহাসে একটি পরিবর্তনসূচক পর্ব। ১৮১৩ সালে কোম্পানি প্রথম একটি শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছিল যার দ্বারা বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এই সিদ্ধান্তে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য বিদ্যার ধ্বজাধারীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। কিন্তু, ১৮৩৫ সালে লর্ড ম্যাকলের শিক্ষানীতি অনুসারে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হয় তাতে কলাবিদ্যা এবং ইংরেজি শিক্ষাই প্রাধান্য পায়। প্রাথমিক বিজ্ঞানের সহজপাঠ ছাড়া এতে প্রকৃত বিজ্ঞানের স্থান ছিল না। বিজ্ঞানের প্রসার ঘটিয়ে ভারতবাসীকে স্বয়ংম্ভর করার কোন সদুদ্দেশ্য সরকারের ছিল না। শাসকবর্গের নীরোগ থাকার প্রয়োজনে চিকিৎসাবিদ্যা চর্চা করা হত। সে কারণে হাসপাতালগুলি খোলা হয়েছিল এবং প্রচলিত আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতির পরিবর্তে পাশ্চাত্য বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রচলন ঘটতে লাগল।
ঔপনিবেশিক বাংলায় পাশ্চাত্য বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতির এক ধারাবাহিক ইতিহাস এই বইতে তুলে ধরা হয়েছে।
Related products