লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর ‘দত্তা’ পাঠকের সামনে এসেছে চিরায়ত উপন্যাস হিসেবে। প্রকাশক বিশ্বসাহিত্য ভবন। সব মিলিয়ে ১০৪ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2011।
সেকালে হুগলি ব্রাঞ্চ স্কুলে হেডমাস্টারবাবু বিদ্যালয়ের রত্ন বলিয়া যে তিনটি ছেলেকে নির্দেশ করিতেন, তাহারা তিনখানি বিভিন্ন গ্রাম হইতে প্রত্যহ এক ক্রোশ পথ হাঁটিয়া পড়িতে আসিত । তিনজনের কি ভালবাসাই ছিল! এমন দিন ছিল না যেদিন এই তিনটি বন্ধুতে স্কুলের পথে ন্যাড়া বটতলায় একত্র না হইয়া বিদ্যালয়ে প্রবেশ করিত ! তিনজনেরই বাড়ি ছিল হুগলির পশ্চিমে। জগদীশ আসিত সরস্বতীর পুল পার হইয়া দিঘড়া গ্রাম হইতে, এবং বনমালী ও রাসবিহারী আসিত দুইখানি পাশাপাশি গ্রাম কৃষ্ণপুর ও রাধাপুর হইতে। জগদীশ যেমন ছিল সবচেয়ে মেধাবী, তাহার অবস্থাও ছিল সবেচেয়ে মন্দ। পিতা একজন ব্রাহ্মণ-পণ্ডিত।
যজমানি করিয়া বিয়া-পৈতা দিয়াই সংসার চালাইতেন। বনমালীরা সঙ্গতিপন্ন জমিদার। তাহার পিতাকে লোকে বিত্তশালী ব্যক্তি বলিয়াই জানিত, অথচ পল্লীগ্রামের সরল জীবনযাত্রা নির্বাহ করিতেন । রাসবিহারীদের অবস্থাও বেশ সচ্ছল। জমিজমা চাষবাস পুকুর-বাগান-পাড়াগাঁয়ে যাহা থাকিলে সংসার চলিয়া যায়, সবই ছিল। এ-সকল থাকা সত্ত্বেও যে ছেলেরা কোন শহরে বাসাভাড়া না করিয়া-ঝড় নাই, জল নাই, শীত-গ্রীষ্ম মাথায় পাতিয়া এতটা পথ হাঁটিয়া প্রত্যহ বাটী হইতে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করিত, তাহার কারণ, তখনকার দিনে কোন পিতামাতাই ছেলেদের এই ক্লেশ-স্বীকার করাটাকে ক্লেশ বলিয়াই ভাবিতে পারিতেন না; বরঞ্চ মনে করিতেন, এতটুকু দুঃখ না করিলে সরস্বতী ধরা দিবেন না।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। ঘরে বসেই বইপোকায় অর্ডার করুন।