শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘দেবদাস’ — চিরায়ত উপন্যাস। চিত্রা প্রকাশনী-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। এর কলেবর ১২৯ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2025।
পরদিন ভোরবেলায় সে পলাইয়া আসিয়া পার্বতীর ঘরের জানালার নিকট দাঁড়াইলÑডাকিল, পারু! আবার ডাকিল, পারু!
পার্বতী জানালা খুলিয়া কহিল, দেবদা!
দেবদাস ইশারা করিয়া বলিল, শিগ্গির আয়। দুজনে একত্র হইলে দেবদাস বলিল, তামাক খাবার কথা বলে দিলি কেন?
তুমি মারলে কেন?
তুই জল আনতে গেলি না কেন?
পার্বতী চুপ করিয়া রহিল।
দেবদাস বলিল, তুই বড় গাধাÑআর যেন বলে দিসনে।
পার্বতী মাথা নাড়িয়া বলিল, না।
তবে চল্, ছিপ কেটে আনি। আজ বাঁধে মাছ ধরতে হবে।
বাঁশঝাড়ের নিকট একটা নোনাগাছ ছিল, দেবদাস তাহাতে উঠিয়া পড়িল। বহুকষ্টে একটা বাঁশের ডগা নোয়াইয়া পার্বতীকে ধরিতে দিয়া কহিল, দেখিস যেন ছেড়ে দিসনে, তা হলে পড়ে যাব।
পার্বতী প্রাণপণে টানিয়া ধরিয়া রহিল। দেবদাস সেইটা ধরিয়া একটা নোনাডালে পা রাখিয়া, ছিপ কাটিতে লাগিল। পার্বতী নিচে হইতে কহিল, দেবদা, পাঠশালে যাবে না?
জ্যাঠামশাই তোমাকে পাঠিয়ে দেবেন।
বাবা আপনি বলেচেন, আমি আর ওখানে পড়ব না। বাড়িতে পণ্ডিত আসবে।
পার্বতী একটু চিন্তিত হইয়া উঠিল। পরে বলিল, কাল থেকে গরমের জন্য আমাদের সকালবেলা পাঠশালা বসে, আমি এখনি যাব।
দেবদাস উপর হইতে চক্ষু রাঙাইয়া বলিল, না, যেতে হবে না।
এই সময়ে পার্বতী একটু অন্যমনস্ক হইয়া পড়িল,Ñঅমনি বাঁশের ডগা উপরে উঠিয়া গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে দেবদাস নোনাডাল হইতে নিচে পড়িয়া গেল।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের পড়ার তালিকায় বইটি রাখা যায়। বইপোকার সংগ্রহে বইটি রয়েছে।