লেখক শামসুর রাহমান-এর ‘উপন্যাসসমগ্র’ পাঠকের সামনে এসেছে উপন্যাস সংকলন ও সমগ্র হিসেবে। প্রকাশনার দায়িত্বে অনন্যা। এর কলেবর ২৩৯ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: ১ম প্রকাশ, ২০২০।
চেয়ারে হেলান দিয়ে ইশতিয়াক একটু হাসলো। এখন সে অবসন্ন। ক্লান্তির কুয়াশা তার ওপর দিয়ে ভেসে যাচ্ছে। এই অবসাদ স্নায়ুকে তেমন বিপর্যস্ত করে না, বরং উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এজন্যেই কি হাসলো ইশতিয়াক? এই অবসাদ উপভোগের কথা ভেবেই কি তার ঠোঁটে জেগে উঠেছে হাসির কুঁড়ি? ইশতিয়াক মৃদু মৃদু হাসছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। এই মাত্র একটি উপন্যাস শেষ করেছে সে। অনেকদিন ধরে লিখছিল, প্রায় তিন বছরের শ্রমে গড়ে উঠেছে রাশি রাশি অক্ষরের একটি ভুবন। ইশতিয়াকের মনোজ ভুবন। হ্যাঁ, ইশতিয়াক হোসেন একজন লেখক। হেঁজিপেঁজি কেউ নয়। ইতোমধ্যেই তার বেশ নাম-ডাক হয়েছে। ভাগ্য তার প্রতি সুপ্রসন্নই, বলা যায়। খুব বেশি রগড়াতে হয়নি তাকে, প্রকাশকদের দোরে ধরনা দিতে দিতে জুতোর সোল ক্ষয় করেনি সে। একটি বিখ্যাত সাপ্তাহিকের ঈদ সংখ্যায় তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই একজন প্রকাশক ইশতিয়াক হোসেনের লেখা সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশের জন্যে রীতিমতো ব্যাকুলতা প্রকাশ করেন। খুব কম লেখকের বেলায় এ রকমটি হয়। এখন সে নামজাদা লেখক। রুচিশীল পাঠকগোষ্ঠি তার লেখা পছন্দ করে। সমালোচকদেরও নেক নজর পড়েছে তার ওপর। কিন্তু ইশতিয়াক হোসেনকে কিছুতেই জনপ্রিয় উপন্যাসকার বলা যাবে না। তিরিশ দিনে তিনটি উপন্যাস লিখে ফেলার তেলেসমাতি ক্ষমতা নিয়ে সে জন্মায়নি।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। বইপোকায় এখনই সংগ্রহ করুন।