শামসুর রাহমান রচিত ‘শামসুর রাহমানের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ — চিরায়ত কাব্য বিষয়ক বই। সাহিত্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত। বইটিতে আছে ৬৭২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 10th Print, 2014।
প্রায় পঁচিশ বছর ধরে বাগদেবীর পেছনে পেছেনে ছুটে চলেছি। কখনো তিনি আমাকে নিয়ে যান স্নিগ্ধ উপতক্যায় ,প্রাচীন উদ্যানে, ঝরনাতলায় ,সূর্যোদয়ে ঝলমলে টিলায়, কখনো বা তাকে অনুসরণ করতে গিয়ে পৌঁছে যাই চোরাবালিতে। প্রায়শই ব্যর্থতার কুশে পা ক্ষত-বিক্ষত হয়, মাঝে মাঝে অবসাদ আমাকে লক্ষ্য করে ,যেমন কোনো শবভুক পাখি চক্রাকারে ওড়ে মৃতকল্প পথচারীর ওপর।কিন্তু আমি কখনো হাল ছাড়িনি।কোনো একদিন প্রকৃত সিদ্ধির সন্ধান মিলবে। এই আশায় এখনো যাত্রা অব্যাহত রেখেছি। শেষ পর্যন্ত পণ্ডশ্রম হবে কিনা, জানি না। গন্তব্যে পৌঁছতে পারি আর নাই পারি, আমার পথ চলাতেই আনন্দ। কবিতার লেখার সময় ,কোনো এক রহস্যময় কারণে , আমি শুনতে পাই চাবুকের তুখোড় শব্দ। কোনো নারি আর্তনাদ, একটি মোরগের দৃপ্ত ভঙ্গিমা, কিছু পেয়ারা গাছ , বাগান ঘেরা একতলা বাড়ি, একটি মুখচ্ছবি, তুঁত গাছের ডালের কম্পন,ধিকিয়ে চলা ঘোড়ার গাড়ি, ঘুমন্ত সহিস ভেসে ওঠে দৃষ্টিপথে বারবার। কিছুতেই আগুলো দূরে সরিয়ে দিতে পানি না। যা কিছ মানুষের প্রিয়-অপ্রিয়, যা কিছু জড়িত মানব নিয়তির সঙ্গে, সেসব কিছুই আকর্ষণ করে আমাকে। সবচেয়ে বড় কথা, সুদূর সৌরলোক,এই সরাচর মানুষের মুখ,বাঁচার আনন্দ কিংবা যন্ত্রণা, সবসময় বন্দনীয় মনে হয় আমার কাছে। এসবের বন্দনা-ই কি আমার কবিতা? বলা মুশকিল; কবিতা বড় গূঢ়াশ্রয়ী, বড়গ জটিল। আমি তো জীবনের স্তরে স্তরে প্রবেশ করতে চাই, কুড়িয়ে আনতে চাই পাতালের কালি, তার সকল রহস্যময়তা।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। বইপোকায় এখনই সংগ্রহ করুন।