জীবনানন্দের কবিতাকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘চিত্ররূপকময়’। শব্দ-ব্যবহারে, উপমা-রূপক-উৎপ্রেক্ষা-চিত্রকল্প নির্মাণে এবং ছন্দসজ্জায় জীবনানন্দ এই কবিতাবলিতে গভীর এক ভালোবাসার কাহিনি রচনা করে গেছেন, বাংলার প্রতি। প্রকৃতির আপাততুচ্ছকে ঘিরে যে মহিমামণ্ডল বাংলা ভাষার নির্জনতম কবি সৃষ্টি করেছেন তার তুলনা বিশ্ব-সাহিত্যেই বিরল। রূপসী বাংলা, তাঁর চিত্ররূপময় কাব্যরীতিতে দেশপ্রেমের মহিমায় আলোকসঞ্চারী। অনন্য এ কাব্যগ্রন্থ নিমগ্ন পাঠকের কাছে ধরা দেয় সতত নতুন এক অধ্যায় হয়ে, কেননা এর প্রতিটি কবিতা নিভৃতে নিজের মনে, চর্তুদশপদে গ্রথিত হয়েও বিন্যাসে অভিযাত্রী। কর্ণফুলী, কীর্তিনাশা, জলাঙ্গী, ধলেশ্বরী, পদ্মা, রূপসা আর ধানসিড়ি-জলসিড়ির তীরে তীরে যে বাংলাকে জীবনানন্দ আবিষ্কার করেছেন তাঁর রূপসী বাংলায়, সে-বাংলা একান্তভাবেই তাঁর নিজস্ব।