লেখক জীবনানন্দ দাশ-এর ‘বিভা’ পাঠকের সামনে এসেছে চিরায়ত উপন্যাস হিসেবে। বইটি প্রকাশ করেছে প্রিয়মুখ। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ১৬০ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 1st Published, 2026 নিয়ে।
বিভা — জীবনানন্দ দাশের অন্যতম অনন্য এবং বিতর্কিত উপন্যাস। এটি তাঁর মৃত্যুর অনেক পরে, ১৯৯৫ সালে প্রথমবার গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে মিশে আছে জীবনানন্দের কবিসুলভ চেতনা, অন্তর্দ্বন্দ্ব, এবং এক অন্তঃসারশূন্য সমাজে মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন।বিভা মূলত একটি একক পুরুষ চরিত্র—তপনের আত্মোপলব্ধির কাহিনী। শহরের নির্জনতা, নিঃসঙ্গতা ও যৌনতা নিয়ে তাঁর মনোজগতে যে সংঘর্ষ ও প্রশ্ন জাগে, তারই সাহসী বর্ণনা রয়েছে এই উপন্যাসে। তপনের কল্পনার বিভা, তার প্রণয়, প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, দ্বিধা ও সমাজসংকোচ—সব মিলিয়ে এই উপন্যাস এক ধূসর, কিন্তু তীব্র বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি করে।এই উপন্যাসটিও জীবনানন্দের অন্য লেখার মতোই প্রচলিত কাহিনীর গঠন ভাঙে—এখানে নেই স্পষ্ট শুরু বা শেষ, নেই নাটকীয় মোচড়, বরং রয়েছে একটি স্রোতের মতো মনোজাগতিক যাত্রা। উপন্যাসে যৌনতা এবং পুরুষ-নারী সম্পর্ক নিয়ে যে খোলামেলা ও জটিল মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ রয়েছে, তা তাঁর সময়ে সাহিত্যে বিরল ছিল। ফলে অনেকেই মনে করেন, ‘বিভা’ ছিল সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা একটি রচনা।জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতার মতো এখানেও গভীর নিঃসঙ্গতা, অস্তিত্বের সংকট ও সমাজের মানসিক গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ রেখেছেন। এখানে ‘বিভা’ চরিত্রটি কোনো স্পষ্ট নারী নয়, বরং এক প্রতীক—যা হতে পারে প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, অথবা শুধুই এক উপলক্ষ আত্মানুসন্ধানের।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের পড়ার তালিকায় বইটি রাখা যায়। বইপোকা থেকে বইটি সংগ্রহ করে নিন।