পরশুরাম : গল্পসমগ্র ভূমিকা পরশুরাম ওরফে রাজশেখর বসুর মৃত্যুর পরে ষাট বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, তাই যথানিয়মে তাঁর গ্রন্থ তাঁর গ্রন্থগুলির স্বত্বমুক্তি ঘটেছে। এই সুযোগে তাঁর নানা রচনা, বিশেষত তাঁর অসামান্য গল্পগুলিকে সমগ্রভাবে নিশ্চয় এখন অনেক প্রকাশকই প্রকাশ করবেন। নিউ লতিকা প্রকাশনীও তার যথাসাধ্য সামর্থ্য নিয়ে এই কাজে এগিয়ে এসেছে। আমরা মনে করি এই কাজ বাঙালি পাঠকের বৃহত্তর স্বার্থের অনুকূল, কারণ প্রতিযোগিতার মধ্য থেকে যোগ্য সংস্করণটি তিনি বেছে নিতে পারবেন। পরশুরামের স্বত্বমুক্তি এক দিক থেকে স্বস্তিরও বটে, কারণ তাঁর মতো একজন পূর্ণসিদ্ধিকামী (ইংরেজি perfectionist কথাটির অপটু বাংলা) লেখকের প্রতি তাঁর বইয়ের আগেকার প্রকাশনাগুলি যথেষ্ট সুবিচার করেনি বলে আমাদের ধারণা। অপটু আর অপরিচ্ছন্ন মুদ্রণ, প্রচুর মুদ্রণপ্রমাদ, গুণহীন কাগজ, পরিকল্পনায় কৃপণতা (পাতার চারপাশের পরিসর অতি অল্প), পরে অসমর্থ সম্পাদনা—ইত্যাদিতে লেখকের প্রতি শ্রদ্ধার চেয়ে ব্যাবসায়িক লক্ষ্য বেশি ফুটে উঠেছিল বলে বইগুলি দেখতে সুশ্রী বা প্রকাশনায় উৎকর্ষের উদাহরণ হয়নি। সালতারিখের প্রতি বিপুল উদাসীনতা তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। পরশুরামের মতো লেখক আরও বেশি শ্রদ্ধা আর মনোযোগ দাবি করতেন বলে আমাদের বিশ্বাস। নিউ লতিকা প্রকাশনী, তার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, ওই মহৎ স্রষ্টার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিয়ে এই কাজে অগ্রসর হয়েছে। তার সাফল্য-বিচারের ভার সুধী পাঠকের উপর।