রাজশেখর বসু বাংলা সাহিত্যে ‘পরশুরাম’ ছদ্মনামে রসরচনার জন্য খ্যাতিমান। তুলনায় বেশি বয়সে সাহিত্যজীবন শুরু হলেও ‘গড্ডলিকা’, ‘কজ্জলী’, ‘হনুমানের স্বপ্ন ইত্যাদি গল্প’, ‘কৃষ্ণকলি’, ‘গল্পকল্প’, ‘ধুস্তুরী মায়া ইত্যাদি গল্প’ গ্রন্থ বাংলার পাঠকমহলকে আলোড়িত করেছিল। রসরচনা ছাড়া ‘লঘুগুরু’, ‘বিচিন্তা’, ‘ভারতের খনিজ’, ‘কুটির শিল্প’ নামে প্রবন্ধ-গ্রন্থাদিও বিখ্যাত। ১৯৩০ খ্রি. তাঁর অসামান্য কীর্তি বাংলা অভিধান ‘চলন্তিকা’ প্রকাশিত হয়। অনুবাদগ্রন্থ : ‘বাল্মীকি রামায়ণ’, ‘মহাভারত’, ‘মেঘদূত’, ‘হিতোপদেশের গল্প’ প্রভৃতি। পরশুরাম সামাজিক নানা বিষয়ের প্রতি তীব্র কুঠারাঘাত করেছেন এবং মানুষের সুবুদ্ধি, দুর্বুদ্ধিকেও লেখার মাধ্যমে বিদ্ধ করেছেন। এজন্যই রাজশেখর বসু পরশুরাম ছদ্মনামের আড়ালে মিথিক্যাল পরশুরামের চরিত্র বৈশিষ্ট্য আধুনিকভাবে ব্যবহার করেছেন। গল্পকারের পুরাণাশ্রিত গল্প ছাড়াও আরও অনেক গল্প আছে, তার পরিমাণই বেশি।