নাজমুল আহসান শেখ এর লেখা ও শ্রাবণ প্রকাশনী প্রকাশনীর বই "পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বর অংশগ্রহণকারী বৈমানিকদের বর্ণনায় বিমান বাহিনীর ভূমিকা | Buy this book at 235 BDT from বইসদাই - boisodai.com | Bangladesh | বইপোকা
১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সকালে সেনাসদরে ‘‘ডালিমের চিৎকার আর স্টেনগানের কড়াক শব্দে এমন ভয়ঙ্কর পরিবেশের সৃষ্টি হলো যে, যেসব অফিসার নুরউদ্দীনের কামড়ায় জড়ো হয়ে কান পেতে রেডিও শুনছিল, তারা কোনো কিছু না বুঝেই মহাবিপদ আশঙ্কায় পড়িমরি করে যে যেদিকে পারলো প্রাণ নিয়ে দিলো ছুট। এক নিমেষে ১৫/২০ জন অফিসারের জটলা সাফ! তড়িঘড়ি করতে গিয়ে কেউ চেয়ার উল্টালো, কেউ অন্যজনকে মাড়ালো, একজন তো আস্ত টেবিলই উল্টে ফেলে দিল। তোপের মুখে পড়ে মোমেন যখন আমতা আমতা করে কিছু বলছিল, সেই ফাঁকে সুযোগ বুঝে পিলারের আড়াল থেকে আমিও দিলাম ভোঁ দৌঁড়।” (তিনটি সেনা অভ্যুথান ও কিছু না বলা কথা: লে. কর্নেল আব্দুল হামিদ (অব) পিএসসি; পৃ. ৪১-৪২) ২৯ অক্টোবর রাত ১১টায় জিয়া আমাকে তার অফিসে ডাকলেন। ডেকে আমাকে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন, প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার সুন্দরী স্ত্রীর সঙ্গে মেজর শাহরিয়ার অশালীন ব্যবহার করেছে। জিয়া বললেন, ‘এরা অত্যন্ত বাড়াবাড়ি করছে। ট্যাংকগুলো থাকাতেই ওদের এতো ঔদ্ধত্য।’ (একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ রক্তাক্ত মধ্য-আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর, কর্নেল শাফায়াত জামিল; পৃ. ১৩২) ‘দেশে সরকার নেই, সেনাবাহিনীতে চেইন অফ কম্যান্ড বিধ্বস্ত- এমন অবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। মনে হচ্ছিল সমগ্র দেশ কয়েকজন মেজরের হাতে জিম্মি আর সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসাররা নির্বিকার চিত্তে, ভয়ে অথবা হাসিমুখে তাদের এই চরম স্বেচ্ছাচারিতা সহ্য করে যাচ্ছিলেন। সামান্য প্রতিবাদ করার সাহস কেউ করেননি। বিড়ালের গলায় কেউই ঘণ্টা বাঁধতে সাহস পাচ্ছিলেন না। এমতাবস্থায় স্কোয়াড্রন লিডার লিয়াকত আলী খানের নেতৃত্ব এবং পরিকল্পনায়’ জীবনবাজি নিয়ে মোশতাকের অবৈধ সরকার’কে উৎখাতের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হাতেগোনা কয়েকজন বৈমানিক/কর্মকর্তা/বিমানসেনা! ৩ নভেম্বর সকালে মিগ যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টারের গর্জনই ছিল ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম সফল সরব প্রতিরোধ। এই বইয়ে মোশতাকের অবৈধ সরকারের পতনের সাথে সরাসরি জড়িত বিমানবাহিনীর সেই সকল বৈমানিকের সাক্ষাৎকার এবং তাদের নিকট থেকে জানা সেই দিনের সকল ঘটনাবলির অবিকৃত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সেই দিনের রোমাঞ্চকর অভিযানের সত্য ঘটনাবলি গত ৪৮ বছর ধরে সমগ্র জাতির কাছে রয়েছে অজানা। আসুন তাদের কাছ থেকেই জেনে নেই সেই দিনের আজানা কাহিনি!