চার্লস ডিকেন্স রচিত ‘অলিভার টুইস্ট’ — অনুবাদ উপন্যাস। অনুবাদ করেছেন এম এ আউয়াল। রাবেয়া বুকস্-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। এর কলেবর ১২৭ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st published, 2021।
এটা শুধু একটা গল্পের বই নয়, এই বইটা হলো- বাস্তব জীবনের একটা অংশ। অলিভার টুইস্টের ওপর ডিকেন্সের নিজের বাল্যজীবনের কিছু ছাপ আছে।
তার নিজের বাল্যকালে তিনি যে দুঃখময় জীবন ভোগ করেছিলেন, তার চারদিকে ইংল্যান্ডের সমাজে, পথেঘাটে অনাথআশ্রমে ছোট-ছোট ছেলেমেয়েদের যে মর্মান্তিক দুর্গতি আর দুঃখ দেখতে পান, তার করুণ কাহিনি এই বইতে এমনভাবে ফুটে উঠেছে যে, এই বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর, ইংল্যান্ডের লোকের নজর সেদিকে পড়ল এবং চারদিক থেকে লোকেরা এগিয়ে এসে গরিব-দুঃখি অনাথ বালকদের জীবনকে সার্থক করে তোলার জন্যে চেষ্টা করতে লাগলেন এবং সরকারও আইন করে শিশুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করলেন ।
আজ আমাদের দেশে রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে অনেক ‘অলিভার টুইস্ট' খালিপেটে, খালিগায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তোমরা যারা এই কাহিনি পড়বে, তাদের কাছে আমাদের অনুরোধ, তোমরা যেন সেই অনাথ অলিভার টুইস্টদের ভুলো না। যখন খেয়েদেয়ে নরম লেপের তলায় গরম বিছানায় শোবে, তখন একবার মনে করো তোমারই মতো আরো অনেক ছেলে বাইরে শীতে খালিগায়ে, খালিপেটে রাস্তার ধুলোয় শুয়ে আছে। যতদিন জানবে তোমার জাতি, তোমার দেশ, তোমার রাষ্ট্র সত্যিকারের সভ্য হয়নি—একথাই ডিকেন্স বলে গেছেন অলিভার টুইস্টে।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি সংগ্রহে রাখার মতো। বইপোকা থেকে অর্ডার করুন।