‘মৃত্যুক্ষুধা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস। ১৯২৭ সাল থেকে সওগাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হওয়ার পর ১৯৩০ সালে এটি বই আকারে প্রকাশিত হয়। প্রথম মহাযুদ্ধ-পরবর্তী অর্থসংকট আর ঔপনিবেশিক শাসনের চাপে পিষ্ট কৃষ্ণনগরের দরিদ্র মানুষের জীবন এর পটভূমি; একদিকে মৃত্যু, অন্যদিকে ক্ষুধা—দুয়ের নির্মম টানাপোড়েনে এগিয়ে চলে কাহিনি।
প্যাকালে, মেজ-বউ, কুর্শি কিংবা মুক্তির স্বপ্ন দেখা আনসার—চরিত্রগুলো যেন অদৃশ্য কোনো শক্তির হাতের পুতুল। একটু ভালোভাবে বাঁচার আশায় তারা সংস্কার, প্রথা আর আজন্ম লালিত বিশ্বাসের দেয়াল পেরিয়ে যায়, হারায় আত্মপরিচয় আর স্বাধীনতাও। এই উপন্যাস লেখার সময় নজরুল নিজেও কঠিন দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ছিলেন; সেই অভিজ্ঞতার উত্তাপ লেখায় স্পষ্ট।
শ্লেষ, উপমা আর দৈনন্দিন শব্দের নতুন ব্যবহারে ভাষাটি একেবারে নজরুলীয়। বাংলা সাহিত্যে সাম্যবাদী চেতনার এই পথিকৃৎ উপন্যাস শ্রেণিবৈষম্য ও নিম্নবর্গের জীবন নিয়ে আগ্রহী পাঠকের অবশ্যপাঠ্য।