‘কুটিরবাসী রবীন্দ্রনাথ’ — মৈত্রেয়ী দেবী-এর কলমে লেখা। বইটি প্রকাশ করেছে মুক্তধারা। এর কলেবর ২২৩ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 4th Edition :2025।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ একজন প্রধান সৈনিক। এইরকম আমরা ভাবছিলাম, তখন শ্রদ্ধেয় শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে বললেন যে, তিনি প্রধান শহীদও, কারণ যখন তাঁর বসতবাড়িতে সৈন্যরা আক্রমণ চালায় তখন কোনো মানুষ নয়, দেওয়ালে টাঙানো রবীন্দ্রনাথের ছবিটির বুকে তারা গুলি করে ও ছবিটি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। প্রথম যখন শুনি পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতে পারে না এইরকম একটা ফতোয়া জারি হয়েছে ও তাঁরা অন্তরের দুর্দমনীয় আবেগে বিপদের ঝুঁকি নিয়েও যে নিষেধ অগ্রাহ্য করছেন, রবীন্দ্রনাথের শিষ্যা হিসাবে তখন থেকে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে এক গভীর একাত্মতা অনুভব করছি। রবীন্দ্রকাব্য যেমন মানুষের চেতনার পর্বে পর্বে প্রবেশ করে তার পরিবর্তন ঘটায়, তাকে অন্য মানুষ করে তোলে।
রবীন্দ্রকাব্য যে পড়েছে, আর যে পড়েনি তাদের মানসলোকের স্তরভেদ ঘটে যায়। রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিত্বেরও তেমনি প্রভাব ছিল। অর্থাৎ মানুষ রবীন্দ্রনাথ, কবি, সুরকার ও শিল্পী রবীন্দ্রনাথের মতোই আশ্চর্য পুরুষ । তাঁর জীবন ও কাব্যে বিরোধ ছিল না শুধু নয়, তাঁর জীবনই ছিল কাব্য। তাঁর দীর্ঘ আশি বছরের জীবনের শেষ পনের বছর তাঁকে খুব নিকট থেকে দেখবার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার কাহিনী আমি নানাস্থানে লিখেছি; কারণ মানুষ রবীন্দ্রনাথের কথা আমাদের পরে বলবার কেউ থাকবে না।
বইপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি সংগ্রহে রাখার মতো। পছন্দের তালিকায় যোগ করুন বইপোকায়।