জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘কল্যাণী’ — চিরায়ত উপন্যাস। প্রিমিয়াম পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত। সব মিলিয়ে ১৪৪ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st।
কল্যাণী — জীবনানন্দ দাশের অপরিচিত অথচ গভীরভাবে অনুভবী এক উপন্যাস। এটি তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পর ১৯৮১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে নেই প্রচলিত কাহিনির ছক, নেই সাদা-কালো চরিত্রায়ন; আছে শুধু মানুষের একাকীত্ব, ক্লান্তি, অন্বেষণ এবং হারানোর গভীর বোধ।
নামমাত্র নায়িকা কল্যাণী—এক রহস্যময়, অন্তর্মুখী, আত্মনির্ভরশীল নারী। আর তার পরিপ্রেক্ষিতে উঠে আসে এক পুরুষ চরিত্র—একজন অবসরপ্রাপ্ত মানুষ, যিনি সময়ের ভারে, স্মৃতির ভারে এবং নিজের অসারতা-অনুভবে ভারাক্রান্ত। কল্যাণীর সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনো জড়িয়ে যায় প্রেমে, কখনো আত্মীয়তার মতো, কখনোবা নিছক মানবিক নির্ভরতার টানে। কিন্তু এই সম্পর্ক কখনোই পরিণতির দিকে যায় না; বরং প্রতিটি মুহূর্তে প্রশ্ন তোলে মানুষের অস্তিত্ব, সম্পর্ক, আর সমাজে আমাদের অবস্থান নিয়ে।
এই উপন্যাসেও জীবনানন্দ দাশ তাঁর চিরচেনা বিষণ্ণ, ধীরলয় জীবনের ছাপ রেখেছেন—যেখানে চরিত্রেরা বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি জীবন্ত হয়ে ওঠে তাদের নিঃশব্দ যন্ত্রণায়। উপন্যাসের ভাষা কাব্যিক, ভাবপ্রবণ এবং ক্ষীণ আলোয় দেখা স্বপ্নের মতো।
কল্যাণী উপন্যাসটি কোনও সমাধান দেয় না, বরং আমাদের নিয়ে যায় এমন এক দুনিয়ায়, যেখানে প্রশ্নগুলোই মুখ্য—উত্তর নয়। মানুষের অন্তর্জগত, সময়ের ক্ষরণ, এবং সম্পর্কের অনির্ধারিততা এখানে এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করেছে।
জীবনানন্দ দাশ নিজে কখনও এই উপন্যাস প্রকাশ করেননি।
বিশেষ করে সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। পছন্দের তালিকায় যোগ করুন বইপোকায়।