মোনা বলে যাচ্ছে আর ইমরান শুনে যাচ্ছে। মেয়েটা অনবরত ঠোঁট দুটোনাড়ছে, ‘আপনাকে ভালোবাসলে দোষ, ফোন দিলে দোষ, দেখা করলে দোষ, আপনার কফি খেলে দোষ। মানলাম আমি দোষী। সরেই তো এলাম। এখন কী সমস্যা?’ নাব্যতা হারানো নদীর মতো শান্ত ইমরান। কী উত্তর দিবে? সব কিছুতেই তো বাধা। নিজের ওপর রাগ হচ্ছে। মোনাকে প্রশ্রয় দিতে একদম চায় না। আবার মোনার সাথে অন্য কাউকে সহ্যও হয় না। কালবৈশাখী ঝড় উঠেছে বুকের ভেতর। নিষ্পলক তাকিয়ে আছে মোনার দিকে। মোনা অভিমান নিয়েই বলছে প্রতিটি কথা। চোখের জল লুকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে মোনা। কিন্তু জল পড়ল না, চোখের জলটুকুও নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিল। নাক টেনে গলা ঝেড়ে প্রশ্ন করল, ‘আর কিছু বলবেন?’ মোনার চোখে চোখ রেখে ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে বলল, ‘নীল আমার পছন্দের রং।’ ‘শুনে খুশি হলাম। তাতে আমার কী?’ ‘তোমাকে সুন্দর লাগছে।’ ‘হ্যাঁ, জানি। আমি সুন্দর তাই সুন্দর লাগছে।’ ‘আমার সাথে একটা ছবি তুলবে?’ চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেল মোনার। কী বলল ভদ্রলোক! ছবি তুলবে! নিজ থেকে বলল এই কথা? নাকি মোনা ভুল শুনল? ধরে রাখা অভিমান ভেঙে চুরমার। ধক ধক করছে বুকের ভেতর। পলক পড়ছে না মোনার। এতটাই বিস্মিত যে চোখের পলক ফেলতে ভুলে গিয়েছে।