থ্রিলার ও অ্যাডভেঞ্চার গল্প হিসেবে ‘ব্লাডস্টোন’ লিখেছেন নাজিম উদ দৌলা। প্রকাশক আদী প্রকাশন। বইটিতে আছে ৩০৪ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2021।
ব্লাডস্টোন” বইটির ভূমিকা থেকে নেয়াঃ ঐতিহাসিক উপন্যাসে ইতিহাসের কোনাে সত্যঘটনা অবলম্বন করে ঔপন্যাসিক তার কল্পনার জাল বিস্তার করে চলেন। কিছু সত্যচরিত্র আর কিছু কাল্পনিক চরিত্রের মিশ্রণে ঐতিহাসিক পটভূমি হয়ে ওঠে অর্থবহ। অর্থাৎ,যেখানে ইতিহাস থেমে যায়,সেখান থেকেই শুরু হয় ঐতিহাসিক ঔপন্যাসিকের কল্পনার বিচরণ। ইতিহাস আর ঐতিহাসিক উপন্যাস এক নয়। যা ঘটেছে শুধু তারই নির্ভেজাল বর্ণনা-গ্রন্থ হলাে ইতিহাস। প্রমাণ ছাড়া কোনাে তথ্য গ্রহণ করার কিংবা তথ্যের অদল-বদল ঘটানাের সামান্যতম স্বাধীনতাও ইতিহাসবিদের নেই। কিন্তু যা ঘটেছে- ঐতিহাসিক উপন্যাস শুধু তারই ওপর নির্ভর করে লেখা হয় না। যা ঘটেছিল বা ঘটতে পারত বলে অনুমান করা যায়- তাকেও উপন্যাস সমমর্যাদায় গ্রহণ করে। ফলে ইতিহাসের সত্য যেখানে শুধু ঘটনার সত্য,উপন্যাসের সত্য সেখানে ঘটনার সত্যের সঙ্গে ঔপন্যাসিকের বােধ,কল্পনা ও হৃদয়ের সত্যের এক সমন্বিত রূপ। তাই বলা চলে,ইতিহাস শিক্ষা দেয়া ঐতিহাসিক উপন্যাসের উদ্দেশ্য নয়। কেউ যদি ইতিহাস শেখার আশায় ঐতিহাসিক উপন্যাস পড়েন,তাহলে তিনি ভুল করবেন। অবশ্য “ব্লাডস্টোন”কে পুরােপুরি অর্থে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যায় কিনা তা নিয়ে আমি দ্বিধাগ্রস্ত। উপন্যাসের মূল পটভূমি বর্তমানের বাংলাদেশ,যেখানে ঘটনার সূত্র ধরে উঠে এসেছে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি। ইতিহাস তুলে আনতে গিয়ে আমি যতটা সম্ভব সত্যের একদম কাছ ঘেঁষে গিয়েছি।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। বইপোকার সংগ্রহে বইটি রয়েছে।