ঘর ছেড়ে পথে নামার পক্ষে এমন জোরালো সওয়াল খুব কম বইয়েই পাওয়া যায়। রাহুল সাংকৃত্যায়ন জীবনের প্রথম সাড়ে চার দশক কাটিয়েছেন ভবঘুরে হিসেবে, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকে ১৯৪৮ সালে হিন্দিতে লিখেছিলেন ‘ঘুমক্কড় শাস্ত্র’। রণজিৎ সিংহের বাংলা অনুবাদে সেটিই ‘ভবঘুরে শাস্ত্র’।
লেখকের যুক্তি সরল অথচ তীক্ষ্ণ: মানুষ নদীর মতো, থেমে গেলেই জমে যায় লোকাচার আর দুশ্চিন্তার শ্যাওলা। পৃথিবীকে যাঁরা বদলেছেন, তাঁদের অনেকেই ছিলেন পথিক। তাই অজানাকে জানতে, নিজেকে আর দুনিয়াকে বদলাতে বেরিয়ে পড়া দরকার, আর সেটা তারুণ্যেই। থামতে হলে শেখার জন্যই থামা, তারপর আবার চলা।
নিছক ভ্রমণগাইড নয়, এটি জীবনদর্শনের বই। তরুণ পাঠক, অভিযাত্রী মন, ভ্রমণসাহিত্য ও অনুবাদ সাহিত্যের অনুরাগীদের জন্য ১৩৬ পৃষ্ঠার এই বই সাহস আর কৌতূহলের খোরাক জোগাবে।