বাংলা বর্ণশিক্ষার বই বা প্রাইমারের প্রায় একশো বছরের বিবর্তন এক মলাটে ধরে রেখেছে সব্যসাচী হাজরার ‘বর্ণমালা’। ১৮৪৯ থেকে ১৯৪৮ সালের মধ্যে প্রথম প্রকাশিত আটটি নির্বাচিত প্রাইমারের নমুনা এখানে মূল নকশা অক্ষুণ্ন রেখে নতুন করে ছাপা হয়েছে, যাতে পাঠক পুরোনো দিনের হরফ, অলংকরণ, রঙের ব্যবহার আর মুদ্রণরীতির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হতে পারেন।
সংকলনে আছে মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ‘শিশুশিক্ষা’, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’, রামসুন্দর বসাকের ‘বাল্যশিক্ষা’, সীতানাথ বসাকের ‘আদর্শ লিপি’, যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ‘হাসিখুসি’, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্রাক্ষর’, নন্দলাল বসুর অলংকরণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সহজ পাঠ’ এবং সত্যজিৎ রায়ের অলংকরণে বিমলচন্দ্র ঘোষের ‘হাতেখড়ি’। উডব্লক, লেটারপ্রেস, লিথোগ্রাফি, এচিংসহ নানা মুদ্রণ ও অলংকরণ-প্রযুক্তির ছাপ এসব পাতায় ধরা আছে।
শিশুশিক্ষা, নারীশিক্ষা ও বাংলা মুদ্রণের ইতিহাসে প্রাইমারের ভূমিকা বুঝতে এবং গ্রাফিক ডিজাইন, টাইপোগ্রাফি বা প্রকাশনার কাজে যুক্তদের জন্য ২৭৬ পৃষ্ঠার এই সংগ্রহ একটি অমূল্য দলিল।