১৯২২ সালের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত ‘অগ্নি-বীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ, আর এই বইয়ের হাত ধরেই বাংলা কবিতায় এক নতুন কণ্ঠের আবির্ভাব ঘটে। বুদ্ধদেব বসু তাঁকে বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক কবি; প্রেমেন্দ্র মিত্রও কবিতায় অভিনন্দন জানিয়েছিলেন তাঁর আগমনকে।
ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নজরুলের দ্রোহ ছিল নিখাদ ও আপসহীন। শাসকেরা তাঁর বই, কবিতা, গান একের পর এক বাজেয়াপ্ত করেছে; লেখার জন্য তিনি কারাবরণ করেছেন, কারাগারে চল্লিশ দিন অনশন করেছেন—উদ্বিগ্ন রবীন্দ্রনাথ টেলিগ্রাম পাঠিয়ে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই অগ্নিময় চেতনার প্রথম বিস্ফোরণ এই কাব্যগ্রন্থে।
শতবর্ষ পেরিয়েও ‘অগ্নি-বীণা’-র ঝংকার সমান তাজা। জাতীয় কবির কাব্যযাত্রা যেখান থেকে শুরু, সেই বইটি প্রত্যেক বাংলা কবিতাপ্রেমীর সংগ্রহে থাকা উচিত।