‘উপন্যাসসমগ্র-২’ লিখেছেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। সালাউদ্দিন বইঘর-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৬৭২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2018।
মা-ভাগীরথীর কূলে কূলে চরভূমিতে ঝাউবন আর ঘাসবন, তারই মধ্যে বড় বড় দেবদারু গাছ। উলুঘাস কাশশর আর সিদ্ধি গাছে চাপ বেঁধে আছে। মানুষের মাথার চেয়েও উঁচু। এরই মধ্যে গঙ্গার স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হিজল বিল এঁকেবেঁকে নানান ধরনের আকার নিয়ে চলে গেছে। ক্রোশের পর ক্রোশ লম্বা হিজল বিল। বর্ষার সময় হিজল বিল বিস্তীর্ণ বিপুল গভীর, শীতে জল কমে আসে, গঙ্গার টানে জল নেমে যায়, সূর্যের উত্তাপে শুকিয়ে আসে, তখন হিজল বিল টুকরো টুকরো। হিজল বিল থেকে নালার শতনরী গিয়ে মিশেছে গঙ্গার স্রোতের সঙ্গে; আশ্বিনের পর থেকে টুকরো টুকরো বিলগুলিকে দেখে মনে হয়, ওই হারের সঙ্গে গাঁথা কালো মানিকের ধুকধুকি। তখন হিজল বিলের জলের রঙ কাজলকালো, নীল আকাশ জলের বুকে স্থির হয়ে আসে, যেন ঘুমোয়। চারিপাশের ঘাসবনে তখন ফুল ফোটে। সাদা নরম পালকের ফুলের মত কাশফুল, শরফুল-অজস্র, রাশি রাশি। দূর থেকে মনে হয়, শরতের সাদা মেঘের পুঞ্জ বুঝি হিজল বিলের কূলে নেমে এসেছে-তার সেই ঘন কালো রঙ, বর্ষায় যা ধুয়ে ধুয়ে গলে গলে ঝরে পড়ে জমা হয়ে আছে ওই হিজল বিলের বুকে-তাই ফিরিয়ে নিতে এসে বিলের কূলে প্রতীক্ষমাণ হয়ে বসে আছে। মধ্যে মধ্যে হিজল বিলের বাতাস ভরে ওঠে অপরূপ সুগন্ধে। পাশেই গঙ্গার বুকে নৌকা চলে অহরহ, সেই সব নৌকার মাঝি-মাল্লারা পুরুষানুক্রমে জানে, কোথা থেকে আসছে এ সুগন্ধ। তাদের মনে কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
বইপ্রেমী পাঠকদের পড়ার তালিকায় বইটি রাখা যায়। ঘরে বসেই বইপোকায় অর্ডার করুন।