মানুষ জীবন জুড়েই আশ্চর্য এক নিঃসঙ্গতা বয়ে বেড়ায়। এই নিঃসঙ্গতায় সবচেয়ে বড় যন্ত্রণার নাম আক্ষেপ। যে মানুষটি সকলি পেয়েছে, যার পাওয়া হয়নি কিছুই, কিংবা যে সব পেয়েও হয়ে গেছে নিঃস্ব- তারা সকলেই যেন দিনশেষে কোথাও না কোথাও গিয়ে দাঁড়িয়েছে একই সমতলে। একই বিন্দুতে। যেন বুকের গহীন গোপন কোন কুঠুরি থেকে আলগোছে অগোচরে বেরিয়ে আসতে থাকে হাহাকারের সুদীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস। এই দীর্ঘশ্বাস থেকে মুক্তি কীসে? আমার ধারণা, এই প্রশ্নের উত্তর মানুষের কাছে নেই। কিংবা মানুষ নিজের অজান্তেই জীবনভর ওই দুঃখবোধ, ওই অপ্রাপ্তির হাহাকার আর নিঃসঙ্গতা উদযাপন করতে চায়। এ যেন ব্যথার মতন সুখ। সালমা সুলতানার কবিতাও তেমন। এখানে যন্ত্রণায় ভার হয়ে থাকে বুক, থমথমে ব্যথা জমে না পাওয়ার আক্ষেপে, কিন্তু দিন শেষে ওই না পাওয়ার আক্ষেপ কিংবা তেষ্টাতেই যেন মিশে থাকে প্রাপ্তি। যা পাওয়া হয় না, তাই যেমন সবচেয়ে বেশি রয়ে যায় চিরকাল, যা পাওয়া হয়ে যায়, তা-ই যেন হারিয়ে যায়, ধূসর হতে থাকে ক্রমশই, সবচেয়ে বেশি, ঠিক তেমন। এ যেন হৃদয়ের কথকতা কবিতায়, ছন্দে, শব্দে আদল পেয়েছে আমাদের সব অনুভব । তিনি তাই বলেছেন- 'সব আছে, তবু কেন তুমি-আমি একা? কিংবা- শক্ত মুঠোয় হাত, আঙুলের ফাঁকে আঙুল, তবু মনে হয়, এই বুঝি ছুটে গেল হাত! এত বড় চাঁদ, তারপরও কেন এত কালো রাত। কিংবা- কার ঘরেতে জ্বালতে আলো সলতে দিশেহারা, কার বিষাদের বারিধারায় ডুবছে ধ্রুবতারা। এই অনুভবতো চিরন্তন। আমাদের সকলের। সালমা সুলতানা তার কথা ও কলমে সেই সব অনুভব ছুঁয়ে গেছেন আলগোছে, গোপনে ।অথচ তা সোচ্চার হয়েছে যন্ত্রণায় একাকীত্বে। ~ সাদাত হোসাইন লেখক ও নির্মাতা