মশিউল আলম রচিত ‘তনুশ্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় রাত’ — সমকালীন উপন্যাস। মাওলা ব্রাদার্স-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। এর কলেবর ১৪৪ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: ২য় মুদ্রণ, ২০০৩।
"তনুশ্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় রাত" বইটির সম্পর্কে কিছু কথা:
তনুশ্রী চক্রবর্তীর সঙ্গে হাবিবুর রহমানের পরিচয় ও সখ্য সােভিয়েত ইউনিয়নের রাজধানী মস্কোতে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সােভিয়েত সমাজে তখন চলছে গ্লাসনস্ত-পিরিস্রোইকার সুবাদে এক সর্বব্যাপী পরিবর্তন। বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা; সেইসঙ্গে মানুষের মন, বিশ্বাস, চালচলন। তনুশ্রী আর হাবিবের চোখের সামনে রচিত হচ্ছে। একটি দীর্ঘ, উচ্চাকাঙ্ক্ষী বিপ্লবের শেষ অধ্যায়। এ হচ্ছে এই কাহিনীর দেশকাল । খােদ কাহিনীর পশ্চাৎপট বাঙলা। কলকাতার মেয়ে তনুশ্রীর সামন্ত পূর্বপুরুষ ১৯৪৭-এ পূর্ববঙ্গ থেকে বিতাড়িত। হাবিবের পূর্বপুরুষরা ছিলেন একই অঞ্চলের মধ্যবিত্ত কৃষক। অসম্ভব নয় যে, হাবিবের পিতামহ তনুশ্রীর ঠাকুর্দার প্রজা ছিলেন।
কিন্তু তাতে হাবিব বা তনুশ্রীর কিছু যেত-আসত না, কারণ তাদের সম্পর্ক সহপাঠীর; বন্ধুত্বের; প্রেম বা । প্রণয়ের কোনাে প্রসঙ্গ ছিল না। কিন্তু তনুশ্রীর কোষ্ঠীতে নাকি লেখা ছিল যে সে যবনকর্তৃক আক্রান্ত হইবে। তাই কি এক দৈব দুর্বিপাকে’ হাবিব কর্তৃক তার গর্ভসঞ্চার ঘটে? কূটাভাষ এই যে, মেধাবী, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, বাম মনােভাবাপন্ন তনুশ্রী কোষ্ঠীতে বিশ্বাস করে। তাহলে কিভাবে অগ্রসর হতে পারে এই কাহিনী? অতঃপর তনুশ্রীর হৃদয়ে কি কোনাে পরিবর্তন সূচিত হয়? বন্ধু হাবিবকে প্রণয়ী হিসেবে সে কি গ্রহণ করতে পারে?
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। বইপোকা থেকে বইটি সংগ্রহ করে নিন।