এ সেই ৮৪-৮৫ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের করিডরের রেলিং। প্রায় কোনো ক্লাস না-করা এক দঙ্গল কুলাঙ্গার। তাদের একজন রেলিঙে পা তুলে, বিপজ্জনক কায়দায় খাতায় আঁকিবুকি আঁকছে, সঙ্গে বাংলা হরফে কিছু গাঁথার কোশেশও। বন্ধুরা আশা ছেড়ে দিয়েছে। দেশ, বিশ্ববিদ্যালয়, এরশাদশাহি জমানার আন্দোলন তথা গোলাগুলি-বোমাবাজি-ককটেল-জালি-কাটা-মুখর। লেখা হচ্ছে বিতিকিচ্ছিরি একটা কিছু, তরুণ শিশুটি আগলাতে পারছে না যাকে: তনুমধ্যা। চেতনা প্রকাশনা মারফত বই হ’তে-হ’তে ৯০। স্বৈরাচার পতনের ৯০। আমানউল্লাহ এক অদ্ভুত প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন, আর ভিতরেও নানা ছবি, মনসা, দ্য হোলি অ্যানানসিয়েশন, নাগকেশর... তিনটি বড়-বড় কবিতা, প্রায় একই সাথে লেখা। উঁহু কবিতা নয়, বালখিল্য। কিন্তু ঐ বয়সটার প্রতি যেমন, বইটারও প্রতি গোপন খানিকটা প্রেম আর সুড়সুড়ি, সে-তো ধ’রেই নেওয়া যেতে পারে ব’লেই হয়তো পুত্রবৎ তানিমের হাতে, এই দ্বিতীয় প্রকাশ। সামান্য পরিমার্জনা করতেই হ’ল এবার, কাঁচামিকে যেটুকু লাই দেওয়া প্রায় অসম্ভব, ততটুকুই। পাঠককে সেলাম। সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, অস্ট্রেলিয়া