একটি মেয়ের শৈশব থেকে যৌবনে পৌঁছানোর গল্প, আর তার ভেতর দিয়ে গোটা একটা সময়ের ছবি, বুদ্ধদেব বসুর ‘তিথিডোর’ ঠিক এমনই এক উপন্যাস। ১৯৪৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম প্রকাশিত এই বইকে লেখকের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস এবং বিশ শতকের সেরা বাংলা উপন্যাসগুলোর একটি বলে ধরা হয়। কলকাতা শহর এখানে শুধু পটভূমি নয়, প্রায় একটি চরিত্র।
ছাপোষা চাকুরে রাজেন মিত্রের ছোট মেয়ে স্বাতী উপন্যাসের কেন্দ্রে। ব্রিটিশ শাসনের শেষ দুই দশকে একটি মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের ওঠাপড়া আর যুদ্ধ ও ভাঙনে বিপর্যস্ত সমাজের সমষ্টিগত চেহারা ফুটে ওঠে তার বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। ধনী ব্যবসায়ী প্রবীর মজুমদারকে ফিরিয়ে দিয়ে স্বাতী বেছে নেয় বইপাগল তরুণ অধ্যাপক সত্যেনকে। কাহিনি শেষ হয় ১৯৪১ সালের ডিসেম্বরে, বোমার আতঙ্কে অন্ধকার কলকাতায়।
পরিবার, প্রেম আর ব্যক্তিস্বাধীনতার টানাপোড়েন নিয়ে লেখা এই কামিং-অব-এজ উপন্যাস ৪০০ পৃষ্ঠার। কবিত্ব আর মননে ভরা গদ্য ভালোবাসেন এমন পাঠকের জন্য এটি আদর্শ।