নদী যেমন পলি বয়ে আনে, তেমনি বয়ে আনে তীরের মানুষের সুখ-দুঃখ আর লড়াইয়ের গল্প। অদ্বৈত মল্লবর্মণের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সেই গল্পেরই মহাকাব্য। তিতাসপারের মালো জেলে সম্প্রদায়ের নিজস্ব জীবনধারা, অবিরাম সংগ্রাম, সরল প্রেম আর ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাওয়া এক জনপদের বেদনা এই উপন্যাসে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। লেখক নিজেই ছিলেন নদীপারের সন্তান, তাই তাঁর বর্ণনায় আছে গভীর দরদ আর নিখুঁত পর্যবেক্ষণ।
১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে লেখা উপন্যাসটি ১৯৫০ সালে ‘মাসিক মোহাম্মদী’তে ধারাবাহিকভাবে বের হয়, আর লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে প্রথম বই আকারে প্রকাশিত হয়। এখানে তিতাস শুধু একটি নদী নয়, মানুষ ও প্রকৃতির অস্তিত্বের প্রতীক।
বাংলা চিরায়ত উপন্যাসের পাঠক, লোকজীবন ও আঞ্চলিক সাহিত্যে আগ্রহী সবার জন্য ২৮০ পৃষ্ঠার এই বই অপরিহার্য।