লেখক সাধন দাশগুপ্ত-এর ‘থালিসের গাধা বিজ্ঞানের সৃষ্টিতত্ত’ পাঠকের সামনে এসেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বই হিসেবে। অনুপম প্রকাশনী-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে সংস্করণ: 1st Edition, 2023।
'থালীসের গাধা' বইটির ঘটনা ও চরিত্র ইতিহাসচিহ্নিত; গ্রীক জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারায় এদের উপস্থিতি আছে; আছে প্যাপিরাসের পুঁথিতে, মেসোপটেমিয়ার লোকগাথায়, বাইবেলের জেনেসিসে অথবা ঐতিহাসিক হেরোদোতাস- পলিবুসের লেখায়...অতীতে গ্রিক দেশ বলতে বর্তমানের গ্রিক ভূখণ্ডকে ধরা হতো;-গ্রিক উপনিবেশ ছিল এশিয়া মাইনরের আয়োনিয়ায়, ইতালির সিসিলিতে, ইজিপ্টের আলেকজান্দ্রিয়ায় এবং সাইপ্রাস-ক্রিট সমেত মূল ভূখণ্ডে। এই নানা দেশের গ্রিক উচ্চারণ এক নয়। এর উচ্চারণ কোথাও উ কোথাও হ্রস্ব আ! এবং -এর উচ্চারণ স্থান বিশেষে ই, ঈ অথবা এ। আয়োনিয়ায় দীর্ঘস্বরের প্রাদুর্ভাব ছিল; অন্যদিকে সিসিলির গ্রিক উচ্চারণে নমনীয়তা বেশি, কাঠিন্য কম।
এই লেখায়, কুশীলবদের নামোচ্চারণে সেকালীন স্থানভিত্তিক উচ্চারণ মানার চেষ্টা হয়েছে। প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানলেখক আসিমভের বইয়ের সাহায্য ছাড়া উচ্চারণ, সময় বা স্থান নির্ণয় সহজ ছিল না। থালীসের মা ফিনিশীয়-এই গল্প গ্রিক পুঁথিতে পাওয়া যায়। তাঁদের বিয়ের গল্পটি মেসোপটেমিয়ার লোকগাথা থেকে নেয়া। আর থালীস সম্পর্কে সব গল্প-তার গাধা, আর নুনের বোঝা, তার কুয়োয় পড়া ঘানিকল দাদন দিয়ে আটকানো, সূর্য গ্রহণের প্রাগুক্তি ইত্যাদি প্লাতো-আরিস্তোতল, বা ঐতিহাসিক হেরোদোতাসের লেখায় আছে। 'টা' দেবতার পুরোহিতরা দীর্ঘ জীবনের ওষুধ জানতেন-এমন উদ্ধৃতি মিশরীয় পুঁথিতে আছে। আর প্রাচীন মিশরে গাধা ছিল জ্ঞানের প্রতীক।
বিশেষ করে জানার আগ্রহ আছে এমন পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। আজই বইপোকা থেকে অর্ডার দিন।