‘ঠাকুরমার ঝুলি’ আহমাদ মাযহার ও দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার-এর লেখা বই। প্রকাশনার দায়িত্বে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এর কলেবর ১৫২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 4th Printed, 2018।
"ঠাকুরমার ঝুলি" বইটির ভূমিকা থেকে নেয়াঃ
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার সাফল্যজনকভাবে তাঁর ঠাকুরমার ঝুলি বইয়ে সহজ সরল গ্রামীণ অনুষঙ্গময় ভাষায় চিরায়ত বাংলা রূপকথার সেরা কয়েকটি গল্পকে সংকলিত করেছিলেন বলেই হয়তাে পরবর্তী এক শাে বছর ধরে বাংলাসাহিত্যে রূপকথা এক আদরণীয় মাধ্যম হিসেবে পাঠকমহলে গৃহীত হয়ে আসছে। কিন্তু বাংলা লােককথার বিভিন্ন আঙ্গিকের মধ্যে যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে সে-বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা এখনও সাহিত্যিক মহলে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যদিও বেশ কিছুকাল আগেই লােকতত্ত্ববিদ। আশুতােষ ভট্টাচার্য বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এইসব আঙ্গিকের সুস্পষ্ট পার্থক্য চিহ্নিত করেছেন এবং মােটামুটিভাবে আঙ্গিকগুলাের সংজ্ঞা নিরূপণ করে দিয়েছেন। রূপকথা, লােককথা বা Folktales, উপকথা, ব্রতকথা ইত্যাদি শব্দগুলাে এখনও প্রায়শই একই অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে যদিও এতে অর্থগত পার্থক্য অনেক। সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অধিকারী জাতিগুলাের মধ্যে জাতীয় নিজস্বতা চিহ্নিত লৌকিক সাহিত্য গড়ে ওঠে; সে-সাহিত্যের প্রাণ হচ্ছে নানা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এক ধরনের কাহিনী। স্বভাবতই মানুষ ভালােবাসে গল্প শুনতে; গদ্য, পদ্য, গীতিকা ইত্যাদি নানা উপায়ে মানুষ গল্প বর্ণনা করে। গদ্য ভাষায় যে-গল্প বর্ণিত হয় তার নাম কথাসাহিত্য। বহু শতবর্ষ ধরে জনসাধারণের মুখে মুখে এ-সব কাহিনী গড়ে ওঠে বলে এ-সব কাহিনীকে লােককথা বলাই যথার্থ। ঠাকুরমার ঝুলি বইয়ের সবগুলাে গল্পই লােককথা, রূপকথা নয়।
শিশু-কিশোর পাঠকদের পড়ার তালিকায় বইটি রাখা যায়। বইপোকায় এখনই সংগ্রহ করুন।