সব সময় এত ব্যস্ত থাকতে হয় যে, অরিন্দম পেছন দিকে ফিরে তাকাবার সময়ই পান না। কোনাে একটা দিনও সকালে বেশিক্ষণ বিছানায় কাটাবার উপায় নেই। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াবার সময়ও নিজের মুখটা দেখেন না ভালাে করে। এক সময় তিনি কাজকে ভালােবেসেছিলেন, এখন সেই কাজই এক ঈর্ষাপরায়ণা নারীর মত তাঁকে সর্বক্ষণ ঘিরে রাখে। একটা ঘরােয়া গান-বাজনার আসরে অরিন্দম দাশগুপ্তের হঠাৎ আত্ম-উপলব্ধি হলাে। ঘটনাটা অতি সামান্য। গান-বাজনার আসরে সময় কাটাবার মতন যথেষ্ট সময় অরিন্দমের নেই। গান-বাজনার প্রতি তাঁর কোনাে ঝোঁকও নেই। যেতে হয়েছিল ভদ্রতার দায়ে। শুভঙ্কর দাসের মেয়ে থাকে ক্যালিফোর্নিয়ায়, সে এসেছে কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে। জয়ন্তীর চেহারা বেশ সুশ্রী, ভালাে গান করে। শুভঙ্কর তিরিশপঁয়তিরিশ জন চেনাজানা লােককে আমন্ত্রণ করেছেন মেয়ের গান শােনাবার জন্য। শুভঙ্করের বাড়ির ড্রয়িং রুমটি যথেষ্ট বড়, সােফা-টোফা সরিয়ে সেখানেই ফরাশ পেতে আসর জমানাে হয়েছে। শুভঙ্করের সঙ্গে অরিন্দমের বিশেষ স্বার্থের সম্পর্ক আছে বলেই অরিন্দম এই আমন্ত্রণ এড়াতে পারেননি।....