রাম রাম ওস্তাদজী! কুছ ধুস খবর শুনাইয়ে!
ওস্তাদজীর পরনে একটা আলখাল্লার মতন পোষাক, নানান জায়গায় তাপ্পি মারা, মাথায় একটা ফেট্টি বাঁধা। গালে পাঁচ-সাতদিনের রুখু দাড়ি। বয়েস হবে পঞ্চাশের ধারে কাছে। কোথায় তার বাড়ি ঘর কিংবা তা নিজের বৌ-বাচ্চা আছে কিনা তা কেউ জানে না। জিজ্ঞেস করলে মৃদু মৃদু হাসে।
মাঝে মাঝে সে এসে উদয় হয়। খাটিয়ায় বসে গ্রামের মানুষের সঙ্গে সুখ দুঃখের গল্প করে। আপদ-বিপদে শলা-পরামর্শ দেয়। দু একদিন এর তার বাড়িতে থাকে, ছাতু কিংবা রুটি আর ভেণ্ডির তরকারি যা দেওয়া হয় তাই-ই আরাম করে খায়, আবার উধাও হয়ে যায়।
গত বছর খরার সময় এ গাঁওয়ের ঠিকাদার বড় বে-শরম, কঠিন-হৃদয়ের মতন ব্যবহার করেছিল। ঐ সময় বাঁধ বাঁধার কাজ কি বন্ধ রাখা ঠিক? জমিতে ধান নেই, হাতে পয়সা নেই, তখন সরকারি মজুরি না পেলে মানুষ বাঁচবে কী করে? সেই সময় ওস্তাদজী এসে ঠিকাদার ব্যাটাকে ভারি জব্দ করেছিল। সবাই এক কাট্টা হয়ে তাকে এক খেজুর গাছের নিচে ঘিরে রেখে চব্বিশ ঘণ্টা দানা পানি ছুঁতে দেয় নি!
ওস্তাদজী এসে যে-দু একদিন থাকে তখন নানারকম মজা হয়। সারাদিন খাটা খাটনি তো আছেই, একেবারে শেষবার চোখ বোজার আগে পর্যন্ত বাঁচার জন্য খেটে যেতে হবে, এটাই নিয়তি। কিন্তু খাটতে খাটতে আনন্দ ফুর্তির কথা মনে থাকে না। ওস্তাদজী সেটাই মনে করিয়ে দেয়। পিঠে চাপড় মেরে বলে, আরে কাজ-কাম তো আছেই লেকিন তা বলে হাসবি না! দ্যাখ না জঙ্গলের জাম্বার আর আকাশের পংখী, তারাও নাচা-গানা করে।....