সত্যজিৎ রায়ের এক অনন্য সৃষ্টি প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু নামের বিশ্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর চরিত্রটি। এহেন প্রোফেসর শঙ্কুর নতুন তিন-তিনটি রোমহর্ষক কাহিনীর সংকলন ‘স্বয়ং প্রোফেসর শঙ্কু।’ সম্পূর্ণ আলাদা-রকমের অভিজ্ঞতার গল্প, তবু প্রত্যেকটিই একইরকম কৌতূহলকর এবং বিজ্ঞানভিত্তিক, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনায়-উৎকণ্ঠায় উদ্গ্রীব করে রাখে। এতে রয়েছে ‘মানরো দ্বীপের রহস্য’ নামের সেই দুর্ধর্ষ কাহিনীটি। শেকস্পিয়রের সমসাময়িক এক নৃশংস জলদস্যু মানরো দ্বীপে যে-আশ্চর্য রহস্যের সন্ধান পেয়েছিল, কী করে তার হদিশ পেলেন প্রোফেসর শঙ্কু, তাই নিয়েই এই কাহিনী। রয়েছে ‘কম্পু’ নামের এক বিস্ময়কর যান্ত্রিক মস্তিষ্কের শ্বাসরোধকারী কার্যকলাপের বিবরণ। রয়েছে মোহেঞ্জাদাড়োর আমলের একশৃঙ্গ অভিযানের এক দুরন্ত ঘটনা। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা মোহেঞ্জোদাড়োর মাটি খুঁড়ে চার হাজার বছর আগেকার ভারতীয় সভ্যতার যেসব নমুনা পেয়েছিলেন, তার মধ্যে ছিল মাটির আর হাতির দাঁতের তৈরি চারকোনা কিছু সীল। সেই জাতীয় একটি সীলে একরকম জানোয়ারের চেহারা পাওয়া যায়, যার শরীরটা অনেকটা বলদের মতো, কিন্তু মাথায় রয়েছে একটিমাত্র পাকানো শিং। এটা যে আজগুবি কল্পনা নয়, সেই অভিজ্ঞতা কী করে হল প্রোফেসর শঙ্কুর তাই নিয়েই এই রচনা।
সত্যজিৎ রায়ের আঁকা প্রচুর ছবি ও অসামান্য প্রচ্ছদ এ-বইয়ের আলাদা আকর্ষণ।