সুকান্ত তাঁর যুগের সাধারণ মানুষের মনের কথা, তাদের ক্ষোভ, আশা-বেদনা ও নৈরাশ্যের চিত্রময় বর্ণনা দিয়েছেন কবিতায়, আবার নৈরাশ্যজয়ী প্রহরের গান শুনিয়েছেন। সমাজের বঞ্চিত মানুষের কথা তিরিশ দশকের কবিতায় এসেছে। অবশ্যই কল্লোল যুগের প্রগলভ কল্লোলিত কণ্ঠ কতটা দায়ী তা হলফ করে বলতে না পারলেও তারুণ্যের স্পর্ধা ও প্রতিবাদী সুর তো স্পষ্ট। সুকান্তের বহু কবিতাই প্রতীকাশ্রয়ী আর তাঁর কবিতায় উপমা, উৎপেক্ষাসহ বহু অলঙ্কার এসেছে, এরা তাঁর কবিতার শরীর ঋদ্ধ করেছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভারত ত্যাগের অব্যবহিত কালপর্বে এদেশের মানুষকে কবি সুকান্ত তাঁর কবিতায় পথ দেখিয়েছেন এবং বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা দিয়েছেন। সুকান্ত বলেছেন যে, আমি সদ্যোজাত শিশুটির কান্না বুঝতে পেরেছি, সে সুতীব্র চিৎকাওে তার অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে, কারণ সুকান্ত বিশ্বাস করতেন ‘মানুষ অপরাজেয়’। সেই অর্থে সুকান্ত নতুন যুগের কবি।