সিদ্দিক মাহমুদুর রহমান ও শিরিন আখতার রচিত ‘সুবে বাংলার জমিদার ও জমিদারী (১৭০৭-১৭৭২)’ — প্রাচীন বাংলার ইতিহাস বিষয়ক বই। প্রকাশক দিব্যপ্রকাশ। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ১৫২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2018 নিয়ে। পাঠকপ্রিয়তায় বইটি বেস্টসেলারের তালিকায় আছে।
‘জমিদার’ শব্দটি ভুমির অধিকর্তাকে বুঝায় (দুটি ফার্সী শব্দ ‘জমি’ বা ‘জমিন’ এবং ‘দার’ অর্থাৎ অধিকারিক; ভূমির উপর যার অধিকার)। ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এর কোন স্পষ্ট অর্থ নেই। শাব্দিক অর্থে জমির মালিককে বোঝালেও তার অধিকার স্পষ্ট নয়। জমিদারী অধিকার প্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত জমির মালিক নন, এটি একটি পদ, যাতে তিনি উৎপাদিত পণ্যের ভাগ গ্রহণ করেন। মোগল সাম্রাজ্যের প্রচলিত ধারা অনুযায়ী জমিদার এমন একজন ব্যক্তি যিনি জমির এক অংশ ভোগ করেন এবং সরকারের কাছে উৎপাদিত পণ্যের ভাগ দিতে বাধ্য। জমিদার সরকারী রাজস্ব ব্যবস্থার অধীনস্ত। একজন কৃষক ও রাজস্ব-জোতদার। ভারত বিজয়ের পর থেকে মোগল শাসকগণ তাদের আয়ের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব কেন্দ্রে আনা ও প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য পুনরায় বরাদ্দ দেয়া কার্যক্রমটিতে জটিলতা দেখা দিতো। এর নিরসনের জন্য অঞ্চল ভেদে স্থানীয় নেতৃত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের পর তাদের নিজেদের অংশ রেখে বাকি অংশ কেন্দ্রে পাঠানোর কার্যক্রমের অধীনে তৈমুরের বংশধরগণ দেশে বিদ্যমান বিশ্বস্ত, বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং অনুদার মনোবৃত্তির ব্যক্তিবর্গের উপর নির্ভর করতে থাকে। এই ক্ষতিকারক কার্যক্রমটির বিকল্প হিসাবে আমলাতান্ত্রিক সমাধান প্রবর্তন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং কর ও শুল্ক ব্যবস্থার সংস্কার সাধনের প্রয়োজনীয়তা ছিল । কিন্তু সেটা হয়নি।
ইতিহাস, সমাজ ও রাজনীতিতে আগ্রহী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।